মাশরুক আহমেদের অনলাইন এক্সিবিশন

মাশরুক আহমেদ

জন্ম:: ১৯৯৩, বাংলাদেশ।

শিক্ষা:: শিক্ষার্থী, কাউন্টার ফটো।

প্রকাশনা ও প্রদর্শনী:: ফ্রিলেন্স ফটোগ্রাফার। সাইফুল হক অমি, এন্ড্রু বিরাজ, Giulio Di Sturco, Asim Rafiqui’র মত বিখ্যাত ফটোগ্রাফারদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন।

Mashruk-Ahmed Continue reading

4 Comments

Filed under সারথি

নবুয়োসির স্থিরচিত্র, উহাদের সেন্টিমেন্টাল জার্নি / মাজুল হাসান

লেন্সের মতো বদলাচ্ছে অ্যাভিন্যুয়ের আকাশ
ভেতরে কাঠের কটেজে সাদাকালো সমীরণ
স্মৃতি ওকে আবেগচালিত ডাউনোসার বলো
সেই কবে বিলুপ্ত, তবু মগজে কুণ্ডলিত কাম
সাপ; সরীসৃপ; হিমরক্তের প্রেমিকের মতো

 

          নবুয়োসি আরাকি— দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী জাপানী ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। কামাশ্রয়ী, ঋজু, খনিশ্রমিকের মতো শরীরবৃত্তীয়। নারী একাকী এক তুষারাচ্ছাদিত মেরু। আর কে না জানে চোখ-ধাঁধানো শুভ্রতাই রহস্যময় গোলকধাঁধা। সবমিলিয়ে নবুয়োসি বহুলআলোচিত। বিতর্কিত। কিন্তু অবধারিত। পূর্বজ ফটোগ্রাফারদের ধারাবাহিকতা, জাপানী ঐতিহ্যবাহী সচিত্র যৌনফ্যান্টাসি সুঙ্গার উত্তরাধিকার সহ আরাকি বিশ্বফটোগ্রাফিতে যোগ করেছেন নিজস্ব টার্ম ‘পার্সোনাল ফটোগ্রাফি’ বা ‘ব্যক্তিগত স্থিরচিত্র’ ধারণা। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

কাঠঠোকরার ঘরদোর : একটি অন্তরাত্মার পাঠ / আসাদ জামান

al-imran

রবীন্দ্রনাথের song Offerings প্রকাশিত হবার পরপরই এর গানগুলো চমকে দিয়েছিল  তখনকার দিনে বিলেতে প্রতিষ্ঠিত কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস, সুইডিশ কবি ভারনার ভন হেইডেনস্টাম, এজরা পাউন্ড ও টমাস স্টার্জ মুরসহ আরো অনেককে। মুর রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে এতটা মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তার পরম প্রকাশ ঘটে ‘সোসাইটি অব লিটারেচার অব দি ইউনাইটেড কিংডম’ এর ফেলো হিসেবে নোবেল কমিটিকে দেয়া এক সুপারিশপত্রে— যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার সুপারিশ করেন। কমিটি মুরের প্রস্তাব আমলে নেয় এবং কয়েকজন সদস্য মুরের প্রস্তাবের পক্ষেই রায় দেন। এতসব প্রস্তাব, প্রশংসা, স্বপ্রণোদিত সুপারিশে নোবেল কমিটি রবীন্দ্রনাথকে বিচারে আনতে আগ্রহ প্রকাশ করে ঠিকই, তবু এই আগ্রহ প্রকাশই কি সার? কী এমন ছিল Song Offerings এ কিংবা  রবীন্দ্রনাথে? এত মুগ্ধতাই বা কীসের? Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

ফারহান নূর শারিকের গুচ্ছ কবিতা

drupadi-dn-suami

অন্যতম

হায়! কেবল প্রগাঢ় উন্মত্ততার জন্য
উন্মাদ হয়েছিলো নিষিদ্ধ
হায়! কেবল অমিশ্র নির্দেশ অমান্য করায়
আদম হয়েছিলো নিক্ষিপ্ত
নিকৃষ্টে কীটের সাথে হতে হয়েছিলো সামাজিক Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

যে চিন্তা থেকে লেখা হয়েছে ‘রিসতা’ / মেহেদী উল্লাহ

রিসতা_১

পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক সময় থেকেই প্রাচ্য সম্পর্কে জানতে চায়। এই জানার বাসনার পেছনে কাজ করছে আধিপত্য। কারো গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাকে জানা উচিত আগে। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে নানা কিছু ঘটছে- বিশেষত বিশ শতকের শুরুতে একটা ভয়ানক বিশ্বযুদ্ধ হবে এটার ক্ষেত্রই যেন তারা প্রস্তুত করছিল সে সময়। আর ঠিক ওই সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় এমন আধ্যাত্মিক, অজাগতিক বিষয়কে এখানকারই মধ্যযুগ থেকে টেনে নিলেন, যা যুদ্ধ নয়, সৌন্দর্য, সত্য ইত্যাদি, পরিশুদ্ধতার কথা বলে। পাশ্চাত্য তাঁর কবিতা পড়ে একটু অবাকই হয়। এটা কি করে সম্ভব হলো? Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

সূর্য আর চাঁদের এক মেশানো আলো / আরফান আহমেদ

সুরলহরী নামে একটা অনুষ্ঠান হত বিটিভিতে। বোধয় রাত দশটার সংবাদের পর দিত। অই সময়টা সবচেয়ে ফ্রাস্টেটিং ছিল। কি কি জানি গাইতো ওরা। অইসব গান সে বয়সে আমার ভালই লাগত না। তর পরে অনেকদিন পরে, লোক মুখে না নান কথা শুনে, একদিন বিসমিল্লাহ খাঁ’র একটা সিডি কিনেই ফেলি, একটা না বোধয় একসাথে কয়েকটা। কিছু বুঝি না। কিন্তু শুনতে থাকি।

বাড়িতে সোমাপু গান শেখার অপপ্রচেষ্টা চালাত। আমিও তবলা ফবলা বাজানোর একটা বৃথা চেষ্টা চালাই, কিন্তু কাজ হয় না। ওই যে সুরলহরীতে লোকজন যে ভাবে বাজাইত, তা আমার পছন্দ হত না। আদতে তখন অই সবের অ আ ক খ বুঝিয়ে দেয়ার মতন কোন লোকই ছিল না বোধয়।

উপহার পাওয়া একটা চাইনীজ ভিসিডি প্লেয়ারে শুনতে লাগলাম, বিসমিল্লাহ খাঁ। সমস্যা ছিল একটাই, অইটাকে টিভির সাথে জুড়ে দিয়েই শুনতে হত, তখন বাড়ির অন্য লোকেদের টিভি দেখার বারোটা বেজে যেত। কিন্তু ততদিনে আমি পিঙ্ক ফ্লয়েডের মহা এনার্কিক ইশতেহারে বুঁদ। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

নোয়া নোয়া / মেসবা আলম অর্ঘ্য

নিস্তব্ধতা! রাত্রিকালীন তাহিতীয় নিস্তব্ধতাকে আমি চিনতে শিখছি ক্রমে।
এই অসীম নিস্তব্ধতার মধ্যে শুধুমাত্র নিজের হৃদ্‌স্পন্দন ছাড়া আর কিছুই আমি শুনতে পাচ্ছি না।
       বাঁশঝাড়ের মধ্যে চাঁদের আলো খেলা করছে। আমার কুটিরের সামনেই বাঁশঝাড়গুলি নিজেদের মধ্যে সমদূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরই মধ্য দিয়ে এসে চাঁদের আলো আমার এই কুটিরেও পৌছে যাচ্ছে। আর মধ্যে মধ্যে বাঁশগাছের ছায়া। সমদূরত্বে এই আলো আর ছায়া দেখে মাওরিদের মধ্যে প্রচলিত একটা বিশেষ বাদ্যযন্ত্রের কথা মনে আসছে, যার নাম ভিভো। এই চাঁদের আলো আর বাঁশগাছ, সমস্তই যেন সেই বাঁশিজাতীয় বাদ্যযন্ত্র হয়ে উঠেছে যা দিনের বেলায় নীরব থাকে কিন্তু রাতে চাঁদের আলোর স্পর্শে প্রিয় সব সুর তোলে কল্পনাপ্রবণ মনে। এই সুরের আবহেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
        আকাশ আর আমার মাঝে শুধুই পাতায় ছাওয়া আমার কুটিরের ছাদ। ওখানে গিরগিটি বাসা বেঁধেছে।
        ইউরোপীয় গৃহস্থালীর কয়েদখানা থেকে বহু বহু দূরে আমি চলে আসতে পেরেছি।
        মাওরিদের কুটিরগুলো কখনোই মানুষকে জীবন, প্রকৃতি কিংবা অসীমের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেয় না।” [১]

Noa_Noa_Paul Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

আনন্দ শংকর / আরফান আহমেদ

TANUSREE-AND-ANANDA

TANUSREE AND ANANDA IN THE WINTER OF 1976 AT TOLLYGUNGE CLUB

সাতটায় একটা ‘টক’ আছে, কিন্তু তারো আগে কিছু কাজ গুছানোরও বাকি আছে, তাই বেরুই একটু আগেই। আবার পথের আগা-মাথা জ্যামও আছে। দেড়টায় বেরিয়ে পড়ি ঠিক সময় মতন শাহবাগ, ধরা যাক দু’একটা বাস এবার। বৃষ্টির ছাট বাড়াতে, পিজির ওষুধের দোকানগুলার সামনের পথে আশ্রয় নিলাম, বৃষ্টি খানিক খানিক বাড়ে। দুইটা প্যারাসিটামল কিনে মনে হয় যাই আজিজে, অন্তুত দুই একটা বই দেখতে দেখতে বৃষ্টি চলে যাবে। আজিজে গিয়ে এক দোকানে পানি চাইলাম, কয় পানি নাই। আরেক দোকানে পানি দিয়ে ২টা ট্যাবলেট কোৎ করে গিলার আগেই একটা চায়ের কথা বলে রাখলাম। চা খাওয়ার পরেও দেখি বৃষ্টি কমে না। ইতিউতি ঘুরাফেরা করার চেষ্টা করি, কিন্তু কাপড়ের বাজারে আমার কোনদিন ভাল লাগে নাই। আমি অই আজিজের নীচতলায় প্রথম লেনে যে সিডির দোকানটা আছে অইটার দিকে যাই, দেখি নতুন কি ওরা পাইরেট করল। কি জানি দোকানটার নাম! আমার মনে নাই। অনেক কিছুই মনে থাকে না কোন কারণ ছাড়াই। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

অঞ্জন দত্ত, ওয়েস্টার্ন সিনেমা, কাঞ্চনজঙ্ঘা-ক্যালিম্পং ও অন্যান্য দৈত্যদানো / জাহেদ আহমদ

South-of-Music-Mariajpeg
তোফা হয় একবার একটা ঘুরান্টি দিয়া আসতে পারলে, স্টেইটস্-এ তেমনটা যাইবার জন্য খোয়ায়েশ নাই মনে করেন, বা লান্ডানে যে একদম মুখিয়ে আছি যাইতে তেমনও না, ক্যানাডায় একবার গেলে মন্দ হয় না, আইস্-স্কেইটিং করা যাইত মনের হরষে, সবচেয়ে ভালো হয় একবার ভোদকাবান্ধব মস্কো ঘুরে এলে। ক্রেইমলিনের ঘণ্টাধ্বনিটাও তো কবে ম্যাকডোনাল্ডসের কাছে বেচে দেয় রুশিমামুরা, তার আগে একবার রেকি করে আসা দরকার। আদ্দিসআবাবা নামে একটা জায়গা আছে, ছেলেবেলায় ইশকুলের বইতে পড়েছিলাম, সেইখানেও মনোরহস্যময় অজ্ঞাত কোনো কারণে ছেলেবেলা থেকেই যাব-যাব করছি। কিংবা শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের সাধনপীঠে একটাবার না-গেলে ব্যাপারটা বেন্যায় হয়ে যায়। যেইসব জায়গায় যাইতে চেয়েছি জীবনে, সেইসব জায়গার সকাশে এইবার অনতিবিলম্বে বেরিয়ে পড়া দরকার। সফরে বেরোনোর বোঁচকা-গাট্টি বাঁধাছাঁদা সেরে রাখতে হয় যে! পশ্চিমে দণ্ডেক বেলা নাই হে! Continue reading

2 Comments

Filed under সারথি

শমোসন তোমাদের নগরে বৃষ্টি নামছে / হাসনাত শোয়েব

sh 5

পর্দা নামছে শমোসন। কাঠের দরজা পেরিয়ে পাখিরা সার্কাসের পথে। খেলার পূর্বে মিউজিক বক্সে বাজছে ওয়ের্স্টান ব্লুজ। যেকোন একটি পাখি ইতোমধ্যে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবুও শান্ত সেসব গান তোমাদের মনে ধর্মগ্রন্থের সুরে বাজছে। যেসব পাখি, তোমরা এখনো স্ট্রিট শো-র প্রলোভন ছাড়তে পারো নি। তোমাদের জন্য রয়েছে তুমুল করতালি এবং রাজকীয় অভ্যর্থনা। তবে মনে রেখো, কাঠবাদাম গাছে অফুরান হর্ষধ্বনি নিয়ে অপেক্ষা করছে শমোসন। পর্দা নামছে শমোসন… Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

কোহেন এবং তার নীল বর্ষাতি / আজমাঈন তূর হক

c2

[অগ্রজ তাহমিন সিতাব, কোহেনগুরু কে]

সেই গানওয়ালাকে ভাবা যাক, যে ঘামগন্ধ-রোদ ভিড়ের মধ্যে গান গায় নিজের মতো করে, নিজের মনে মনে, ল্যাম্পপোস্টের একটা অংশ হয়ে তার সাথে ঝুঁকে যে গান গায় নিজের কথায়, স্নোফল মাথায় পরিয়ে দিতে পারে শাদা কোনো একাকিত্বের হ্যাট; এক কবিকে ভাবা যাক— হিটলারের জন্য ফুল পাঠানোর কবি, লেওনারড কোহেন ও তার আপাতস্থির ঘোরলাগানো গিটার-প্লে ভাবা যাক! Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

‘ফসলবিলাসী হাওয়ার জন্য কিছু ধান চাই’ / ইমরান ফিরদাউস

প্রত্যেকটা রাগ ঠিক প্রত্যেকটা মানুষের মতো আলাদা। সবসময় ওই বারোটা স্বরই থাকে; মানুষের যেমন মাথা, নাক, কান। কিন্তু ঠিক যেমন দুইটা মানুষ কখনোই এক না, দুইটা রাগও না। কক্ষনও দুইটা চেহারা বা দুইটা রাগ পাবেন না একই রকম। রাগের এই যে স্বাতন্ত্র্য, এইটা আপনাকে তার গভীরে নিয়ে যাবে।” – মনি কাউল, ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক ব্যতিক্রমী নাম

মেঘমল্লার_১

মেঘ মালহার বা মেঘমল্লার হিন্দুস্তানি রাগ সঙ্গীত। সঙ্গীত সাধক তানসেন এবং রাগ মেঘমল্লার নিয়ে একাধিক কিংবদন্তী আছে। যেমন- মুঘল সম্রাট আকবরের সভায় নবরত্নের এক রত্ন ছিলেন মিয়া তানসেন। তানসেনের এমন সৌভাগ্যে সমসাময়িক সঙ্গীতজ্ঞরা ঈর্শান্বিত হয়ে পড়েন। তারা রাজসভায় তানসেন কে দীপক রাগ শোনানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। দীপক রাগ এমনই এক তেজী রাগ যা গাইলে গান থেকে সৃষ্ট আগুনে তানসেনের শরীর ঝলসে যাবার সম্ভাবনা ছিলো। তানসেন তা জানতেন। তিনি আরও জানতেন যে, দীপক রাগ গাওয়ার পর যখন আগুন জ্বলবে তা নেভানোর জন্য প্রয়োজন হবে মেঘমল্লার রাগ। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

প্রিয় মাল্যবান / নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

ধারাবাহিক গদ্য

আমার সুন্দর

পর্বঃ ২

...

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, আর্টিস্ট ও কবি। এই ধারাবাহিক গদ্যে, গদ্যকার তার প্রিয় কবি/গদ্যকার/গল্পকার/আর্টিস্টদের ভাষা, রঙ, রেখা, জীবন ও যাপনকে, তার নিজের উপলব্ধির সাথে মেলাচ্ছেন। নিজের সাথে নিজের প্রগাঢ় আলাপের মত। প্রেমে ও মমতায়। লাল জীপ আনন্দিত, এই ধারাবাহিকটি ধারণ করতে পেরে। আসুন আজ ২য় পর্বের গদ্যটি পড়ে ফেলি।

ভূমিকাঃ লাল জীপ


ed lal 3

...

চিঠি কেমন করে শুরু করতে হয় তা আমি জানি না। যদিও আমি এক জীবনে তেরো হাজারের কম চিঠি লিখিনি নিশ্চয়ই। পেয়েছিও ঢের বেশি। আমার নিজ হাতেই পুড়িয়েছি তেরো কেজি চিঠি। সেও অনেকবছর হয়ে গেলো। তারপর মাঝখানে অনেকদিন এইভাবে চিঠি লিখিনি। তোমার কাছে যখন চিঠি লিখতে বসলাম তখন আমার মনে পড়ে গেলো তোমাকে তো আমি সেই ছোটোবেলা থেকেই চিঠি লিখি মনে মনে। হাঁটতে হাঁটতে শূন্যতার ভিতর তোমার সঙ্গেই কথা বলেছি কতোদিন! Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

কিশোর মাহমুদের গুচ্ছ কবিতা

A FANTASY WORLD MADE BY OLEG OPRISCO

সূর্যের বাজনা

গম্ভীর পাহাড়ের ভাঁজে পশু প্রেম শস্যের গান প্রাণ আঁকে, আগুন হুল্লোড়, পাথর নাচে উচ্ছ্বাসে, ওরা উড়বে জোছনায়, তারাখচিত ময়ূর ডানা ঝাপটায়, ঝরে রংধনু, মৃত্যুময় আনন্দে গান গায় ঘাস মগ্ন কবরে, জুয়াড়ির কররেখা জলে চালে জাহাজের গতি, কফিনে নাবিকের কঙ্কাল সমুদ্রশীর্ষে উড়ে যায়, শৈবালে জনপদের নকশা ছাপা ছিল, যারা গ্রহে গ্রহে গচ্ছিত রাখে উৎসব উত্তরপুরুষের

ধর্ম আফিমে, আঙুরক্ষেতে ঘুমিয়ে পড়েছে যে পশুজীবী, লাঙলফলায় গেঁথে দাও, রক্তলাভায় গলে যাক তীর্থভূমি, যে গোপনে পেতে রাখে কারাগার Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

অ্যাসাইলাম অব বার্ড বা একটি  সাক্ষাৎকার / ভাষান্তরঃ সুবর্না ধর

[ রজার বেলেন একজন ফটোগ্রাফার। এ বিদ্যায় তার হাতেখড়ি মাত্র ১৩ বছর বয়সে। তার মা কাজ করতেন ম্যাগনামে, সেই সুবাদে। তারপর থেকে একটু একটু করে এই পৃথিবীর অ্যাসাইলামের ভাষ্যকার হয়ে উঠেনে তিনি। পাখি মানুষ, পুতুল, তার সাথে দেয়ালের ন্যুইসেন্স ড্রয়িং-ইন্সটলেশনের মাধ্যমে অন্য এক পৃথিবীর বাসিন্দা করে দেন তার দর্শকদের। যে পৃথিবী আপাত কুৎসিত, বিভৎস এবং ব্রাত্য, তবে সুন্দরের অপর পিঠ হিসেবে তাহাও সত্য। অন্য এক সত্য। অ্যসাইলামে আশ্রয় নেয়া সত্যের ভাষ্যকারের এই ইন্টারভিউটা ছাপায় পাইডন। নিউইয়র্কে। এইখানে তার ভাষান্তর। আসুন, পাঠ করি। ]

 
Roger Ballen

  • আপনি বলে থাকেন, ফটোগ্রাফি আপনার কাছে একধরণের মনস্তাত্ত্বিক এবং অস্তিত্বময় ভ্রমণ- এই ভ্রমন থেকে আপনি কি পান?

প্রথমত, আমার কাজের মূল লক্ষ্যই হল নিজেকে খোঁজা। সম্ভবত, এটাই আমার এত বছরের ছবি তুলে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য। আমার ছবিগুলো রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক নয় বরং একধরণের মনস্তাত্ত্বিক বক্তব্য। ছবিগুলোর মাধ্যমে দর্শকরা নিজেদের খুঁজে পান। আমিও চাই আমার ছবিগুলো দর্শকদের অন্য যে ব্যক্তিত্ব, যেটাকে আমরা  অন্ধকার দিক বলি, তা বের করে আনুক। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

কবিতাগুচ্ছ / চঞ্চল মাহমুদ

অ্যালেক্স সিরিজ

অ্যালেক্স, আমাদের যে-জীবনের উপর ইউরোপ দাঁড়িয়ে আছে সে-জীবনকে আমরা মৃত ঘোষণা করেছি। ওরা মরা মানুষের শরীরকে নাচের স্কুল ভেবে নাচ শিখছে…

Graffiti_1

উচ্চতা-বিষয়ক

এই অনুর্বর মাটিতে পাথরের চাষ করে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি অ্যালেক্স। দিন শেষ হয়ে এলে আমরা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছি। দূর থেকে কেউ কেউ ভাবছে শুয়োরের খামার জেগে উঠেছে পৃথিবীতে। আমাদের সেইসব তরঙ্গ উৎপাদনের দিন হেঁটে গেছি পাহাড়-ঘেঁষা রাস্তা বেয়ে। আর নিয়মিত পাহাড় ধসে গেছে আমাদের উপর।
অ্যালেক্স, আমরা চাপা পড়ে গেছি উচ্চতার নিচে। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

নষ্টনীড় থেকে চারুলতা বা রায়ের ভাষায় ঠাকুর তর্জমা / ক্লিনটন বি. সীলি / অনুবাদ: ইমরান ফিরদাউস

আলোচ্য রচনাখানি কি-নোট পেপার হিসাবে ২১ অক্টোবর ২০০০ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ১২তম বার্ষিক ঠাকুর উৎসবে পঠিত হয়। ]

charulota_3

এক অর্থে সকল অভিব্যক্তি, বিশেষভাবে যাকে আমরা শৈল্পিক অভিব্যক্তি বলি তা মূলত মাধ্যম থেকে মাধ্যমান্তরের অনুবাদ বা তর্জমাকরণ বৈ কিছু নয়। শিল্পী যদি লেখক হন তবে তিনি তার ভাব শব্দঘটিত অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন; বা যদি হন চলচ্চিত্রকার তবে শ্রুতিচিত্রের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে থাকেন; ভাস্করের বেলায় ঘটে ঐক্ষিক ও যথাসম্ভব স্পর্শগ্রাহ্য অভিব্যক্তির মাধ্যমে; অথবা সঙ্গীত আয়োজকের ক্ষেত্রে বিষয়টি রূপ নেয় শ্রাবণিক ও (হয়তোবা) বাচনিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে… এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে ভাববস্তু অনুবাদের ইত্যাকার আরো নানা দৃষ্টান্ত টানা যায়। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

নাবাহো চোখে নন্দন : গ্যারি উইদ্যারস্পুন / ভূমিকা ও ভাষান্তর : শোয়েব করিম

ভূমিকা

১৯৭৭ সালে প্রকাশিত মার্কিন নৃবিজ্ঞানী গ্যারি উইদ্যারস্পুনের ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড আর্ট ইন দ্যা নাবাহো ইউনিভার্স’ তাঁর কর্মজীবনের শ্রেষ্ঠতম অবদান হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান প্রবন্ধটি বইটির ‘বিউটিফায়িং দ্যা ওয়ার্ল্ড থ্রু আর্ট’ এর প্রথম কয়েকপাতার অনুবাদ।

 

gary witherspoon

১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণকারী গ্যারি উইদ্যারস্পুন নাবাহো ছিলেন না কিন্তু নাবাহোদের সাথে কাটিয়েছেন প্রায় একযুগের মত সময়, অবশ্য সবটাই গবেষক হিসেবে নয়। নাবাহো রিজার্ভেশনে তাঁর আগমন ১৯৬২ সালে মর্মন রেলিজিয়াস মিশনের হয়ে আর সে সময়ই, দুবছরের মাথায় তিনি নাবাহো রিজার্ভেশনেই বিয়ে করেন এবং থেকেছেন নাবাহো পরিবারটির সঙ্গেই। নাবাহো রিজার্ভেশনে আসার আগে বারমিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। রিজার্ভেশনে থাকাকালীন সময়ে এ্যারিজোনা ইউভার্সিটিতে পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন ১৯৬৮ পর্যন্ত, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে নৃবিজ্ঞানে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ অর্জন করেন ১৯৭০ সালে এবং আবারো ফিরে আসেন রিজার্ভেশনে। নাবাহো ভাষায় পারদর্শী ছিলেন তিনি, দায়িত্ব পালন করেছেন নাবাহো ল্যাঙ্গুয়েজ ইনিস্টিটিউটের পরিচালক এবং শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে থেকে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আমেরিকান ইন্ডিয়ান স্টাডিজের চেয়ারম্যান হিসেব দায়িত্ব পালন করেন। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

অর্জুনের প্রাণিজগৎ

[অর্জুন, কোচবিহারে থাকে। কবিতা, গদ্য লেখে। সম্পাদনা করে। ওঁর একটা লেখার জন্য লাল জীপের অপেক্ষা ছিলো ২ বছরের মত। অবশেষে পাওয়া গেলো। অর্জুনকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কেমন আছেন?’ জবাব এলো, ‘এখনো বেঁচে আছি!’ আমরা বলতে চাই, বেঁচে থাকতেই হবে অর্জুন, অনেক অনেক দিন…]

arjun 2

ভূমিকা গদ্য

অর্জুন বন্দোপাধ্যায়

এখন যে কবিতাগুলো লেখার চেষ্টা করছি…

arjun
রিনি, মানে নীলাঞ্জনা এসছিল আমার এখানে এপ্রিল মাসে। ওর বর, অভিষেককেও নিয়ে এসছিল তখন। কোচবিহার রাজবাড়ির মিউজিয়ামটায় নিয়ে গেছি ওদের একদিন। দুপুর তখন। আমারও যাওয়া হ’ল অনেক বছর বাদে। ৮-১০টা ঘরই মাত্র খোলা আছে তখন দেখলাম। বাকি সব জায়গায় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইণ্ডিয়ার কাজ চলছে। তো, একটা ঘরে আমরা একাদশ-দ্বাদশ শতকের পাথরের মূর্তিগুলো দেখছি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, অষ্টাদশ-দশম শতকের পাথরের মূর্তিগুলোর পাথরের যে রঙ, যে নক্‌শা— একাদশ-দ্বাদশে এসে তা বদলে গেছে। সূক্ষ্মতা যোগ হয়েছে আরও। ডিটেইলিং বেড়েছে। যাই হোক, তো একাদশ-দ্বাদশ শতকের একটি নারায়ণী মূর্তির সামনে দেখি রিনি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। ঠায়। আমার তখন শরীর বেশ খারাপ। এতো হাঁটাহাঁটিতে কাহিল হয়ে গার্ডের চেয়ারটা দখল ক’রে বসেছিলাম। রিনিই আমায় ডেকে দেখালো জিনিসটা। দ্যাখ্‌ অর্জুন, এই মূর্তিটার বেশ কিছু জায়গা ভাঙা। মুখের কাছে, হাতের কিছু জায়গা। পায়ের ওখানেও। ভাঙা। এটা যেন কবিতা হয়ে উঠেছে। ওই ভাঙা জায়গাগুলোতে আমি আমার মনের মতো ভাবনার অংশ জুড়ে দিতে পারছি। একটা যেন শূন্যস্থান রেখে দিয়েছে কেউ এতো বছর আগের এই কাজটায়, আমি এসে তা’ পূরণ করব ব’লে। এই পাথরের মূর্তিটা তাহলে আমিও বানিয়েছি কিছুটা, বল?
Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

সৌরভ ভট্টাচার্যের অনলাইন এক্সিবিশন

সৌরভ ভট্টাচার্য

জন্ম:: ১৭ জানুয়ারী, ১৯৯১; কলকাতা।

শিক্ষা:: কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স ও মাস্টার্স। 

প্রকাশনা ও প্রদর্শনী:: মোবাইল ফটোগ্রাফি দিয়ে শুরু। এখন ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করছেন। ভোগ ম্যাগাজিনে তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে।

সৌরভ

হোমকামিং / সৌরভ ভট্টাচার্য

জীবন হলো জটিল এক পথ… যেখানে পরিবর্তনই একমাত্র (যা) স্থির। আমরা ছোট থেকে বড় হই। কিন্তু সবকিছুই পালটে যায়। ঋতু, আশপাশ, বয়স; এমন কী আমরা যাদের ভালো করে চিনি (বলে দাবি করি) সেইসব মানুষও পালটে যায়। তবে, এইসবের পরিবর্তনের মধ্যে পালটায় না একটা জিনিস। সেটা হলো আমাদের পরিবার। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

তানিমরে আমার খুন করতে মন চায় / খেয়া মেজবা

Bikash Bhattacharjee

সকালবেলাটা অসহ্য যন্ত্রণার। অসহায়, ফাঁকা আর অস্বস্তিকর ভীষণ। নিজেকেই একটা আস্ত empty space বলে মনে হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে নিজেকে ভরতে শুরু করি। প্রথমে ক্লান্তিকর ঘুমের মধ্যে ঘুরে আসা জায়গাগুলার কথা ভাবি। স্বপ্নের ভেতর সেইসব ঘটনা, মানুষ— তাদেরকেই ভাবি। খুবই খুশির ব্যাপার এই যে, আমি রাজবাড়িতেই আবার রয়ে গেছি আমার স্বপ্নে। জন্মের পর থেকে আমার দাদীকে দেখতাম মাথায় মেন্দী দিতে। আসলে পুরোপুরি ঠিক তা না। জন্মের বহুকাল পর পর্যন্ত তাকে আমি দেখি নাই, দেখছি আরো খানিকটা বুদ্ধি হওয়ার পরে। সেইদিন দেখলাম, লম্বা এক টেবিলের উপর দাদী তার চুল এলায়ে রাখছে, আর আমি তার চুলে মেন্দী লাগায় দিতেছি। কী লম্বা আর ঘন ছিল সেই চুল! শীতকালের সোনালী আলোতে চুলগুলি চকচক করতেছিল! আমার খুব আনন্দ হইতেছিল দেখতে। কিন্তু দাদীর চুল তো অতো লম্বা ছিল না কখনোই! মনে পড়ে না। এইসব ভাবতে ভাবতে আধো ঘুমে আরো যন্ত্রণা হইতে শুরু করে। এবং একসময় আবার ঘুমায় পড়ি আমি। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

এটি কোনও প্রথাগত সাক্ষাৎকার নয় / ভাষান্তর : আনিকা শাহ ও ইমরান ফিরদাউস

[মার্কেজ আর কুরোসাওয়া। দুই অসীম দিগন্তের দিকপাল। অক্টোবর, ১৯৯০ এ দেখা হয়েছিলো তাদের। আকিরা তখন তার শেষ ফিল্ম বানাচ্ছেন। বোগোতায় মার্কেজ কিছু সময় ফিল্ম-সমালোচকের কাজ করেছিলেন, অনেক আগে। মানে তখনো লেখা হয় নাই,ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স্ অভ সলিট্যুড আর লাভ ইন দ্য টাইম অভ কলেরা। তো যাই হোক, ১৯৯০ এ তাদের দেখা হলো। ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন দুই জনে মিলে। সে সাক্ষাতে। সেই কথোপকথন বাংলা করলেন, দুই অসাধারণ লেখক আনিকা শাহ ও ইমরান ফিরদাউস। লাল জীপ, অনুবাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে, পাঠককে স্বাগতম জানাতে চায়। আসুন তাহলে…]

মার্কেজ-কুরোসাওয়ার

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ: দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে, আমি চাই না শুনতে খবরের কাগজের সাক্ষাৎকারের মতো লাগুক, কিন্তু আমার খুব কৌতূহল আপনার সম্পর্কে, আপনার কাজ সম্পর্কে। যেমন, আপনি স্ক্রিপ্ট কীভাবে লেখেন আমি জানতে চাই। এক তো এইজন্য যে আমি নিজে চিত্রনাট্য লিখি। আর দুই, আপনি বহু বিখ্যাত সাহিত্য থেকে প্রচুর অ্যাডাপ্টেশন করেছেন, আর আমার নিজের কাজ থেকে যে-যে অ্যাডাপ্টেশনই হয়েছে বা হতে পারে তার সবগুলা নিয়েই আমার সন্দেহ হয়। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া / মজনু শাহ (২য় কিস্তি)

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া : মজনু শাহ

I’m a dropout horse : Maznu Shah

১ম প্রকাশঃ ২০১৫

প্রকাশকঃ চৈতন্য

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া 

কবির ভূমিকা 

মজনু শাহ 

...

প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলে নি উত্তর।

বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিমসাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
মেলে না উত্তর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষলেখা-য়, ‘কে তুমি’, এই প্রশ্নটির একটা চিরন্তন আবেদন আছে। যেন বিপুল আলো-অন্ধকার থেকে উৎসারিত আমূল সত্তা-কাঁপানো এই প্রশ্ন। আদৌ কি এর কোনো উত্তর হয়? এটি ভাবতে গিয়ে দেখলাম, প্রশ্নটির মর্মমূলে যে অন্তর্ঘাতশক্তি, তা সম্মোহিত, বিপন্ন, বিব্রত যেমন করে, বিবমিষাও জাগায়। তবু, সত্যকথনের নিকটবর্তী যদি হতে না পারি, তবে একটি ইঙ্গিত, রূপকের বাস্তবতা, বা অন্তত একটি হেঁয়ালি, একে হয়ত মর্যাদা দিতে পারে। যে কোনো কারুকর্মীকে একদিন প্রশ্নরূপী এই চাবুকের মুখোমুখি হতে হয়, কেননা ‘কে আমি’র পিছে খণ্ড খণ্ড আমি’র ছায়া সতত শিকারির মতো ঘুরছে। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

সাইদ সুমনের অনলাইন এক্সিবিশন

সাইদ সুমন

জন্ম:: ১৯৭৯

শিক্ষা:: পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া অ্যাকাডেমি তে বেসিক, অ্যাডভান্স ও পরে দেড় বছর প্রফেশনাল ফটোগ্রাফিতে পড়াশোনা করেন।

প্রকাশনা ও প্রদর্শনী:: স্টক মার্কেট পতন, রানা প্লাজা, শাহাবাগ আন্দোলন, খালিশপুর জুট মিল, সোহরাওয়ার্দি পার্ক এখন পর্যন্ত তার আলোকচিত্রের বিষয় বস্তু।

...

আমার পাঠ

প্রতি মুহুর্ত স্পেস’কে পাঠ করাই প্রাণীর নিয়তি, যে পাঠ করে সেও পঠিত হয়। এই মিথস্ক্রিয়াতে অর্থ নির্মিত হয় জ্ঞানবলে। জ্ঞানের প্রকাশ শব্দে, ভাষা কাঠামোতে, শব্দের অর্থগত পার্থক্য সূচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে উপস্থিত প্রতিমুহুর্ত দমন করে অনেক অনুপস্থিত অর্থও।

মানুষ জ্ঞানবলে সকল প্রাণী হতে শ্রেষ্ঠ! অসীম স্বাধীনতায় কেন্দ্র সৃষ্টি করে মানুষের উন্নতি ও সভ্যতার জ্ঞান চর্চায় পিছিয়ে পড়ে অন্য সকল প্রাণী। বৃক্ষ, পশুপাখি, সবার সাথে তার শোষণের ইতিহাস। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

আয়ো আয়ো ফেরি ফেরি আয়ো (কিস্তি ৩) / আরফান আহমেদ

[১ম কিস্তির লিংক] [২য় কিস্তির লিংক]

Flag-map-of-nepal

স্যান্ডেলটার একটাই সমস্যা, এবড়োখেবড়ো রাস্তায় পায়ের পাতা থেকে ডানে বামে সরে যায়, আর ধুলার একটা পাতলা আবরণ সবসময় লেগে থাকে বলেই, খানিকটা ভিজলে পায়ের তলাটা পিছলা হয়ে যায়, তাই হাঁটাই মুশকিল। কিন্তু গাইড হিসেবে আসা দুই কিশোর, আমাকে নদীপথ দিয়ে নিয়ে যেতে চাইল। আমি দেখলাম এইভাবে সম্ভব না। পায়ের কাটা জায়গাটায় বালুর কণা মিশে গিয়ে সে-এক বিরক্তিকর যন্ত্রণা শুরু হয়। তাই আবার ফেরত উপরে, পাহাড়ের গায়ে লাগোয়া রাস্তাটা দিয়ে। আমার কাঁধের ঝোলাটার ওজন একটু বেশিই। এইদিক-সেইদিক থেকে যোগানো কিছু শুকনা খাবার। তাই তার ওজন বেশি। আর আমার অভ্যাস নাই বলে হাঁটতেও খানিকটা কষ্ট হয়ই। যতই এগোতে থাকি, আমার একপাশে সিঁড়ির মতন ভুট্টাক্ষেত উপরে উঠে গেছে। আমি এগোতে থাকি, জুতাজোড়া ফেলে দেয়াতে মনে হলো, ওজন খানিকটা হালকা হলো। আরো এগোতে থাকি, রৌদ্রে চলা মুশকিল, আর আমি কুলকুল করে ঘামতে থাকি। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

প্রিয় ভিনসেন্ট / নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

ধারাবাহিক গদ্য

আমার সুন্দর

পর্বঃ ১

...

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, আর্টিস্ট ও কবি। এই ধারাবাহিক গদ্যে, গদ্যকার তার প্রিয় আর্টিস্টদের রঙ, রেখা, জীবন ও যাপনকে, তার নিজের উপলব্ধির সাথে মেলাচ্ছেন। নিজের সাথে নিজের প্রগাঢ় আলাপের মত। প্রেমে ও মমতায়। লাল জীপ আনন্দিত, এই ধারাবাহিকটি ধারণ করতে পেরে। আসুন আজ ১ম পর্বের গদ্যটি পড়ে ফেলি।

ভূমিকাঃ লাল জীপ

v 6Self-Portrait with Bandaged Ear and Pipe
January 1889. Oil on canvas, 51 x 45 cm

Continue reading

2 Comments

Filed under সারথি

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া / মজনু শাহ (১ম কিস্তি)

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া : মজনু শাহ

I’m a dropout horse : Maznu Shah

১ম প্রকাশঃ ২০১৫

প্রকাশকঃ চৈতন্য

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া 

কবির ভূমিকা 

মজনু শাহ 

...

প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলে নি উত্তর।

বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিমসাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
মেলে না উত্তর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষলেখা-য়, ‘কে তুমি’, এই প্রশ্নটির একটা চিরন্তন আবেদন আছে। যেন বিপুল আলো-অন্ধকার থেকে উৎসারিত আমূল সত্তা-কাঁপানো এই প্রশ্ন। আদৌ কি এর কোনো উত্তর হয়? এটি ভাবতে গিয়ে দেখলাম, প্রশ্নটির মর্মমূলে যে অন্তর্ঘাতশক্তি, তা সম্মোহিত, বিপন্ন, বিব্রত যেমন করে, বিবমিষাও জাগায়। তবু, সত্যকথনের নিকটবর্তী যদি হতে না পারি, তবে একটি ইঙ্গিত, রূপকের বাস্তবতা, বা অন্তত একটি হেঁয়ালি, একে হয়ত মর্যাদা দিতে পারে। যে কোনো কারুকর্মীকে একদিন প্রশ্নরূপী এই চাবুকের মুখোমুখি হতে হয়, কেননা ‘কে আমি’র পিছে খণ্ড খণ্ড আমি’র ছায়া সতত শিকারির মতো ঘুরছে। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

আয়ো আয়ো ফেরি ফেরি আয়ো (কিস্তি ২) / আরফান আহমেদ

[ ১ম কিস্তির লিংক ]

Flag-map-of-nepal

এইরকম রাতে ঘুমোনোটাই মুশকিল। বাবার ব্যাবহার-করা চাদরটা গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে যাই ঘরের বাইরে। বিজেশ্বরীর এই বাড়িটার ২তলায় আমাদের এবারে ঠাঁই হলো। ঢালুটাতে বসে সিগারেট ধরাতেই দেখলাম, একজনকে তারপুলিনের বাইরে বেরিয়ে যেতে। হয়তো-বা অই বাড়িটার নিচতলার টয়লেটে যাবে, কে জানে, এইসব নিয়ে ভাববার সময় নাই এখন। ভয় পাইতে পাইতে মাথা আর কাজ করে না অনেক সময়, আর ভাবলেও বিষয়টাও কাজ করতে চায় না একসময়। কেমন এক নির্লিপ্ত ভাব, আমাদের কিছুই হয়নি, আর হলেও কিছু যায় আসে না। কারা যেন চিৎকার করে উঠল, মনে হলো আবার বুঝি কেঁপে উঠল কাঠমান্ডু। কিন্তু আমি কেন টের পেলাম না! আমার পাশে শোয়া বন্ধুটার কথা ভাবতে লাগলাম, যদি আবার কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়, তাহলে তো জেগে উঠবেই। সেটা নিয়েও এখন আর চিন্তা নাই। এর মাঝে দেখলাম, অই লোকটাকে কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে এল তাদের তাঁবুতে, একে অপরের সাথে কি কি জানি বলছে, হয়তো নেওয়ার ভাষায়, এই ভাষাটার কোনোকিছুই আমার জানা নাই, তাই বোঝারও উপায় নাই। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

শাহাদুজ্জামানের কথনবিশ্ব / মৃণাল শতপথী

শাহাদুজ্জামানের কথনবিশ্ব

‘আমি লেখক হিসেবে পকেটে কোনো সত্য নিয়ে ঘুরে বেড়াই না।’ — একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন শাহাদুজ্জামান। একজন রাজনীতিকের মতো নয়, যারা দাবী করতে পারেন সত্য তাঁদের জানা। একজন লেখকের সত্য দর্শন তবে কী? নাকি ‘রশমন’ ছবির মতো সত্যের বহুমাত্রিক রূপকে খুঁজে চলেন একজন লেখক? আর খুঁজতে গিয়ে কখনো বিভ্রান্ত কখনো বিহ্বল হন তিনি। এভাবেই ‘কয়েকটি বিহ্বল গল্প’-এর জন্ম হয়তো-বা। কিন্তু বহুমুখী হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে সত্য একটাই। বিশ্বাস একটাই। সেই বিশ্বাসকে লালন করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বিশ্বাসের স্বরূপ পাল্টায়। আর জীবনের রঙ রূপ গন্ধ স্পর্শ দিয়ে আলাদা আলাদা এই স্বরূপকে উন্মোচন করেন লেখক। তখন রাজনৈতিক বক্তব্যও শিল্পরসে জারিত হয়ে জীবনের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ে। এখানেই লেখকের সার্থকতা। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

আয়ো আয়ো, ফেরি ফেরি আয়ো / আরফান আহমেদ

ফটোগ্রাফির কাজে ২০১২ তে, আরফান গিয়েছিল নেপালে। এক  অচেনা পাহাড়ী গ্রাম, গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ইন্দ্রাবতী, আর তার সরল মানুষের কথা, কত শোনেছি আমরা আরফানের কাছে, শাহবাগে বসে। সন্ধ্যার পর। এর ফাকে ফাকে নেপালে তোলা ২টা ফটো সিরিজ আমরা দেখেছিলাম এক্সিবিশন ও আরফানের ওয়েব সাইট (www.arfunahmed.com) থেকে। সিরিজ ২ টার নাম ছিলো Lost & Found এবং Indrawati river story। সেও এক অদ্ভূত মধুর অভিজ্ঞতা আমাদের। কেননা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ফোটো নয় শুধু, আরফান আসলে ঐ নেপাল, তার এবড়ো-খেবড়ো পথ, আর ভাঙ্গা-চূড়া মানুষ, আর মদে চূড় হয়ে ডুবে থাকা লোকগুলোকে ভালোবাসার কথাই বলতে চায়। এই কথাটা টের পাওয়া যায়, Indrawati river story’র ভূমিকাটা পড়ে। আসুন পড়ি…

I went there without knowing where to stay & eat. The people were very kind to me. They gave shelter & food, even though in some villages people were extremely poor. I can remember Sujan Majhi, a 22 years old daily labour in the crasher industry & father of 2 kids, telling me at a starry night, when you go back you can tell the story, that you have stayed in Sujan Majhi’s house, from where you can see the Langtang Himal through window. Or in late night in Sipaborgaw I woke up with a sound of chorus. Young ladies & boys were singing & dancing with ancient sprit. I wonder how these people are celebrating their life without having fear of uncertainty. I tried to photograph this uncertainty of their life. To photograph the restlessness of their life, which dissolves with their blood, like nicotine. & Yes! Love of their life.

nepal 5(এই ছবিটা ২০১২ সালে তোলা। হাসি-খুশি নেপাল)

সেই ভালোবাসার নেপালে, আরফানকে আবার-ও ছুটে  যেতে হয়েছে। এবার আর শুধু ফোটো তোলার জন্যে নয়। ঐ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবার জন্য। আসুন, আরফানের মুখে, এখনকার নেপালের  বিবরণ পড়ি… Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

একশ ছিচল্লিশ নং হাতিরপুলের গাছপালা (শেষ পর্ব) / মেসবা আলম অর্ঘ্য

[প্রথম পর্বের লিঙ্ক] [দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক]

 

            আমরা ট্যাবলেট থেতলে মিকচার বানাতাম। একশ ছিচল্লিশের উঠানে, শিউলিগাছের নিচে ছোট ছোট পুকুর খুড়তাম। রান্নাবাটি খেলতাম। আমাদের ছোট ছোট হাড়িপাতিল ছিল। চুলা ছিল। আমরা মৃত ডাবপাতা পুড়িয়ে চড়ুইপাখি রান্না করতাম ।

একদিন রইছউদ্দীন খান মারা যায়। আমরা তেমন কিছু বুঝতে পারি না। তবে দেখি অনেক লোক আসছে। শাদা কাপড়ে ঢেকে জনাব রইছউদ্দীনকে বের করা হচ্ছে। ওনার ছোট মেয়ে মাটিতে পা ছড়িয়ে বসে চিৎকার করে বলছে- “কই নিতাসেন আমার বাপরে কই নিতাসেন। আমার বাপরে নিতে পারবেন না”।

আমরা শিউলিগাছের নিচে গর্ত খুড়ে সেই গর্তে পানি ভরতে ভরতে লক্ষ্য করি ১৪৬ এর সেজো জামাতা বড় বড় পা ফেলে বাড়িতে প্রবেশ করছে। উনি চাকুরিসূত্রে ঢাকার বাইরে থাকতো। শ্বশুরের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে এসেছে। উঠানে খেলতে থাকা তার শিশুপুত্র বহুদিন পর পিতাকে দেখে লাফ দিলো। চিৎকার করে ডাক দিলো। কিন্তু উনি ফিরেও তাকালো না। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

মানু ও বিনয়ের সঙ্গ-প্রসঙ্গ / জাবের হাসান

binoy 2

“পাখিরা দাঁত মাজে না
তাই মানুষ যখন দাঁত মাজে
তখন পাখিরা বুঝতে পারে না
এই মানুষগুলো কি করে”

দর্শনে একটি সমস্যা আলোচিত হয় ‘আদার মাইন্ড প্রবলেম’ নামে। এই সমস্যার মূল বিষয় হলো আমরা অন্যর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারি কি পারি না তা নিয়ে। ধরি, আমি মিষ্টি খেলাম; অন্য কোনো মানুষ কিন্তু কখনো বুঝতে পারবে না এই মিষ্টি আমার কাছে কতটুকু মিষ্টি লাগছে, কিংবা আমি যদি তিতাকে মিষ্টি বলি, অন্যরা তা মিষ্টি বলে মেনে নিতে বাধ্য। অর্থাৎ মিষ্টত্তের ধারণা কেবল আমার মধ্যে নিহিত, মানে এর ধারণা সাব্জেক্টিভ। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

মৃদুল মাহবুবের কবিতা

[বহুদিন পর, আবার, মৃদুল মাহবুবের নতুন কবিতা। ভাষাকে মননের সমান্তরালে রেখে অবলীলায়, মৃদুল সর্বদা অন্য কবিদের কাছ থেকে নিজেকে দূরত্তে রাখতে জানেন। পাঠককেও এক অন্য ভুবনের ফাঁদে, এক মোহন মিউজিক্যাল চেয়ারে ঠেলে দিতে পারেন। আসুন, পড়ি, ‘বৃষ্টির প্ররোচিত ভাষায় জেগেছে আজ গান, জেগেছে দেহ’… আর তার, বাস্তবতার  বিশ্ব।]

 

ভাষা বাস্তবতার বিশ্ব

mri

ভাষা সর্বদা বাস্তবতা থেকে এগিয়ে থাকে। যদিও সত্য বা বাস্তবতা বা রিয়ালিটি বা ঘটনাবিশ্ব বা চোখের সামনে ভেসে থাকা সকল দৃশ্য ভাষা থেকে অধিক সত্য, রিয়াল। ভাষা বাহক নির্ভর, মানে বক্তা ছাড়া সে ছড়ায় না। আর ভাষার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা সে বাস্তবতারও অধিক আমার দেখতে চাওয়া ইচ্ছাটাকেই নারিশ করে। যা দেখতে চাই তা-ই নির্মিত হয় ভাষায়, মানে শূন্যতায় তৈরি হয় ভাষা-দৃশ্যের পিরামিড। আর কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য লিখিত হয়, কেননা এটাই আমি দেখতে চাই আজ। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

প্রতিবাদে কার্টুন

t31

পহেলা বৈশাখ, ১৪২২ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএস সি চত্বরে যা ঘটে গেলো (ইতিমধ্যে প্রক্টর ও পুলিশ যথারীতি যেটা ঘটেনি অলে দাবী করেছেন) তা আমাদের দেশে নতুন কিছু না।

একটা মেয়ে এই সমাজে কিভাবে বড় হয়, কত ভয়ানক বৈরী পরিবেশে তাকে চলতে হয় তা আসলে তার খুব কাছে থাকা একটি পুরুষের পক্ষেও বোঝাটা দুষ্কর। এমনকী সমাজের ভয়েই কোন মেয়ে আর অন্য কোন মেয়েকেও তার নিজের যৌন-অযৌন অত্যচারিত হবার ঘটনা বলতে চায় না। যে ভাবেই হোক এইবারের ঘটনাটা সবার সামনে চলে এসেছে, এই মর্মবিদারী ঘটনার প্রতিবাদ হচ্ছে অনেকভাবে।

একইসাথে বিস্ময়কর ভাবে এই নোংরা ঘটনার সাফাই গাইতে একদল মানুষ সেই পুরোনো রেকর্ড শুরু করার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে যে আসলে মেয়েটারই সমস্যা ছিল- ইত্যাদি। সেই সাথে প্রশাসন পালন করছে তিন সুবিধাবাদী বানরের ভূমিকা। পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের ধরে আবার ছেড়ে দিচ্ছে, আসলে মানুষের আসল পরাজয়টা কখন হয়? আসল পরাজয়টা হয় যখন সে আবিষ্কার করে তার সবচেয়ে বড় হুমকী হচ্ছে যাকে সে নিজের অভিভাবক ভেবে বিশ্বাস করেছিলো।

বখাটেদের বখাটেপনা যখন প্রশাসনিক সমর্থন পায় তখন আর তারা দুষ্কৃতিকারী থাকে না, হয়ে যায় ক্ষমতাশালী শাসকের অংশ। আমরা এই বিবমিষা উদ্রেককারী দুঃস্বপ্নের থেকে মুক্তি পেতে কিছুই করতে পারি না। তারপরেও নিজেদের ক্ষোভ জানাতে ১৭ ই এপ্রিল সকাল থেকে কিছু তরুণ কার্টুনিস্ট এর আহ্ববানে টি এস সির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। সাথে ছিল আমাদের একমাত্র প্রতিবাদ জানাআর মাধ্যম কার্টুন ও আঁকা। তাতে তাৎক্ষণিকভাবে আঁকা ৩৫ টা কার্টুন ছিল, আর ছিলো একটা ব্যানার। এর চেয়ে বেশী আর কী-ই বা করতে পারি এই গ্রহণ কালে? Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

সম্মোহন কিংবা তীব্রতার রেশ ধরে / জুয়েইরিযাহ মউ

বৈশাখের রচনা

অডিও-রিভিউ

...

‘যতদূরই যেতে চাও
ততদূরই তোমার
যতদূরই যেতে চাই
ততদূরই আমার …
 
সুখে থেকো ভালো থেকো
শুভ থেকো প্রিয় মন
কাছে থেকো পাশে রেখো
যাকে খুবই প্রয়োজন …’

চিৎকার ব্যান্ড

–     অনেক কথার আড়ালে একটা কথাই থাকে। গানকে আসলে জেগে থাকতে হয়। গান জাগে, মুখে মুখে, আড্ডায়, একলা কোথাও, রাতে-দিনে-দুপুরে। গান মূলত কেন জেগে থাকে তার পেছনে কিছু দৃঢ় কারণও থাকে। গানের একটা শক্তি থাকতে হয় সম্মোহনের। নিজে নিজেকে ছড়ানোরও। ‘চিৎকার’ অ্যালবাম নিয়ে লিখতে বসে একটা কথা মনে হলো — প্রথম থেকেই একটা পুর্ণাঙ্গ ব্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই ‘চিৎকার’ তার শ্রোতা তৈরি করতে পেরেছিল, পদ্ম আর অতনু যখন আড্ডায় আড্ডায় গান গেয়ে যাচ্ছেন তখনই বিশেষত। এর নেতিবাচক এবং ইতিবাচক দুটো দিকই রয়েছে। তার আগে ‘চিৎকার’ অ্যালবামের গান নিয়ে কিছু কথা হোক না-হয় … Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

একটা পুরুষ পেপে গাছের প্রস্তাব / মেসবা আলম অর্ঘ্য

বৈশাখের রচনা

 বুক-রিভিউ

...

 

আমার এক বন্ধু আছে কবি। ওনার সাথে কবিতাপাঠ নিয়ে আলাপ হচ্ছিলো। উনি বললো–

আপনি একজন কবিকে পড়ার সময় কী খোঁজেন?

— তার আদিমতার জায়গাগুলি খুঁজি।

— কেন?

— কারণ আমি তো পাঠক। কবিতা লেখকের সাথে আমার আদিমতা রিলেট করতে চাই।

— কেন?

— কারণ এই যোগাযোগটা আমাকে চিন্তায় ফ্যালে। ধৈর্যশক্তি বাড়ায়।

— আপনি কারিগরি দিকগুলির দাম দ্যান না?

— দিবো না কেন? কবিতা তো উপরে উপরে পড়া যায় না। ভিতরে ঢুকতে হয়।

— মানে কী? কবিতার কারিগরি সময়ের সাথে বদলায়?

— লেখকভেদে। নির্ভর করে আপনি কী করতে চাচ্ছেন তার উপর।

lal k 1 Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

মাহবুব শাহরিয়ারের গুচ্ছ কবিতা

বৈশাখের রচনা

...

 

হেই ইউ

তুইই টার্গেট
সালফারের আর গানপাউডারের
কপাল খারাপে পেট্রোলবোমার।
তর পেটে ক্ষুধা
ডেইলি লাইফ
বড্ড সাদা ।
তুইই একমাত্র টার্গেট কাদিরা
তুই।
তারা কইবো হেই ইউ (পিঙ্ক ফ্লয়েড)
তুই তাকাইবি
হাইওয়ের মোড়ে
তরে উপহার দিবো
সালফার, গানপাউডার, স্লিন্টার কিংবা পেট্রোল বোম। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

অমিত চক্রবর্তীর গুচ্ছ কবিতা

বৈশাখের রচনা

...

 

সাইডভিউ মিররে মেঘ

সাইডভিউ মিররে মেঘ। সবার থেকে দূরে একটা
ক্ষীণ, একলা মেঘের দিকে নজর যায়। সম্ভবত
আর্হেন্তিনা থেকে ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছে।
বুয়েনোস এইরেস! কখনো যাই নাই আমি।
তবুও ভাবি শহরটাকে। যখন বৃষ্টি হয়,
বুয়েনোস এইরেসে, তখন কোনো অনির্দিষ্ট
জানালায় যে-কোনো অন্যমনস্কাকে ভাবি।
মনে মনে সে বিড়বিড় করে, “আগুয়া! আগুয়া!”
আকাশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হতে থাকে।
বোর্হেসের দৃষ্টির মতো… Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

মাজুল হাসানের গুচ্ছ কবিতা

বৈশাখের রচনা

 

...

 

মোনার্ক প্রজাপতিরা

সাড়ে ৩ হাজার মাইল দূর থেকে ঊষ্ণ মেঘমালা বয়ে এনেছিল
মোনার্ক প্রজাপতি। আমরা হিমার্দ্র প্রেমিক-প্রেমিকা, চিৎ হয়ে
শুয়েছিলাম জীবন্ত রামধনু মাঠে। পৃথিবীর শেষ প্রাকৃত গানটি
আমাদের ভীষণ-ভীষণভাবে কামাতুর করেছিল। তীব্র ক্ষুধায়
আমি কামড়ে দিয়েছিলাম মাই(ন) আর প্রেমিকা গিলে খেয়েছিল
সোনারঙ দুপুর। বস্তুতপক্ষে আমরা এভাবেই সাবাড় করেছিলাম
রাজপোশাক; পুরো শরীর। এভাবেই পুরনো শূককীট থেকে
জন্ম নেয় নব-নবতর মোনার্ক প্রজাপতি। এখন পূর্বজনমের
শাদাকালো বাড়িতে ফিরে যেতে হলে আমাদের সাঁতরাতে হবে
আরেকটি রামধনু, আরেকটি প্রাকৃত গান আর সাড়ে ৩ হাজার
পবনসমুদ্র। অধিকাংশ মোনার্ক প্রজাপতি সেটা পারে না … Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

কারখানার নাম বলিউড / বিধান রিবেরু

বলিউড বাহাস।বিধান রিবেরু

২০১০ সালের ডিসেম্বরে শাহরুখ খান বাংলাদেশে এসে এদেশের মানুষের সঙ্গে অসভ্যতা ও খাটো করার প্রয়াস পেয়েছেন এবং সেটা দেখে অনেক ভক্ত (ভোক্তা) হেসে কুটিকুটি হয়েছেন। কিছুদিন পর সালমানের টাওয়াল নৃত্য দেখেও ভক্তরা হয়েছেন আপ্লুত। এরপর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপাশা, মালাইকার প্রায় উলঙ্গনৃত্য এবং বাপ্পি লাহিড়ির ‘উ-লা-লা’ শুনে ‘বিসমিল্লাহ’ হয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটম্যাচ বিপিএলের। এদের ভাবখানা এমন ভারতীয় শিল্পীদের না আনলে ঠিক জাতে ওঠা যায় না। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

একশ ছিচল্লিশ নং হাতিরপুলের গাছপালা (দ্বিতীয় পর্ব) / মেসবা আলম অর্ঘ্য

[প্রথম পর্বের লিঙ্ক]

 

             তিনতলার ছাদ থেকে হাফিজাবানুর ছোট ছেলে মাথা বার করে আছে। উনি চেক করছে কে কে ফৃ স্কুল স্ট্রিটের চিপার হোটেলে দৃশ্যমান। ওনাকে দেখে আমরা অদৃশ্য হয়ে যাই।

একশ ছিচল্লিশে হাস্নাহেনার গাছ ছিল। নুরুমিয়া বলতো হাস্নাহেনার গন্ধে সাপ আসে। আমাদের কুকুর ছিল। ভূতেরগলি থেকে প্রায় প্রায় শিশুকুকুর ধরে আনা হতো। তাদের ফিডারে করে দুধ খাওয়ানো হতো। ছালা দিয়ে ঘর বানাতাম। শিশুর চিন্তায় ঘুম আসতোনা।

একবার শীতে একটা কুকুর মারা যায়। আমরা আরেকটা শিশুকুকুর জোগাড় করি। কয়েক মাসেই সেটা তাগড়া যুবতী হয়ে ওঠে। গাত্রবর্ণ গনগনে লাল। নুরুমিয়ার গোসলখানার পিছে, দেয়ালের চিপায়, ডাবগাছের সাথে বাঁধা থাকতো। নুরুমিয়া বলতো দিনের বেলা কুকুর বেঁধে রাখা নিয়ম। নাইলে ওদের গায়ে রাগ জমে না।

রাতে ছাড়া পেয়ে ও সমস্ত বাড়ি চরকির মতো ঘুরতো এবং কাঁঠালপাতা দেখলেও ঘেউ ঘেউ করতো। আমরা মেয়েটির গতরে যথেষ্ট রাগ ঢুকাতে পেরেছিলাম। তবে তারও অকালমৃত্যু ঘটে। একদিন ভোরবেলা দেখি সেন্ট্রাল রোডের মোড়ে কসাইয়ের দোকানের সামনে আমাদের তাগড়া লাল রাগী কুকুরটা মরে শক্ত হয়ে আছে। সবাই বলে গাড়ির ধাক্কা খেয়েছে। আমরা ভূতের গলি থেকে আবার একটা শিশুকুকুর ধরে আনি। Continue reading

2 Comments

Filed under সারথি

যে জাহাজের শিরোনাম নেই / খান রুহুল রুবেল

[গানসংখ্যা-১]

[সরকারী বিজ্ঞান কলেজ ছাত্রাবাস, ঢাকা (২০০৪-২০০৬) এবং বন্ধু সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে (যে শিরোনামহীন হতে চেয়েছিল) মনে রেখে]

Shironamhin-Self-Titled

২০০৪ এর কোনো-একদিন। দিন মনে নেই, ঋতুকাল মনে আছে; কেননা, আমি যখন যখন বাস থেকে বিহ্বল মাছের চোখ নিয়ে এ-শহরে পা রাখলাম, তখন ভেজা রাস্তার আকাশগঙ্গা থেকে গলিত নক্ষত্রের লাভায় আমার প্যান্ট মাখামাখি হয়ে গেল — শহুরে কাদার আস্বাদ। এসবে আমার চোখ ছিল না যদিও, কেননা বিহ্বল মাছ কাদায় বিভ্রান্ত হয় না, আমার সুতি ঢোলা মফস্বলী প্যান্ট বহুবার মহিষের চেতনা নিয়ে কাদায় ডুবেছে পূর্ববর্তী শতাব্দীতেও। আর, আরও বড় কারণ, শহরের “সুগোল তিমির পিচ্ছিল পেট” আমাকে গিলে নিয়েছে ততক্ষণে, আপাদমস্তক। অতএব, পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের এই পাড়ে, শহরে তখন বর্ষা। Continue reading

5 Comments

Filed under সারথি

অর্ণবের গান বিষয়ে আমার যা মনে হয় / মৃদুল মাহবুব

[গানসংখ্যা-১]

 [অর্ণবের গান বিষয়ক আরেকটা গদ্যঃ অর্ণব এবং “অন্যরকম” বিষয়ক বোঝাপড়া / আনিকা শাহ]

Arnob

আমি গানের লোক না। ন্যূনতম কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান আমার নাই গান বিষয়ে, এই স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু করলে ভালো হয়। পরে লাভ আছে। আক্রান্তের বেদনা তাতে থাকে না।

প্রতিটা সময়য়ের একটা চালু ধারা থাকে, সেই ধারায় সব গাইয়ে গান বাঁধে, যন্ত্র বাজায় সাধারণত। যেমন ধরা যায়, যে-সময় আব্বাস উদ্দীন গান গাইতে এল তখন বাংলা গান আমি, তুমি, প্রেম, প্রকৃতি, দেশপ্রেম, ভাব-ভাবালুতায় ভারাক্রান্ত। প্রেমিক প্রেমিকারে চায়, চাঁদের আলোয় আড়ালে, গুনগুনিয়ে। যাকে আমরা গান বলে জানতাম, সেই শিক্ষিত বাংলা গানের ঘরানার ধারাবাহিকতায় যৌনতার বাতাস লাগে নাই তখনও। ভালোবাসা মানে লাভ, লাভমেকিং না। চালুধারার চাপে কেউ এমন গান শিক্ষিতের দরবারে গায় নাই। ফকিরি গান সেই সময়ে মূলধারায় ছিল না বলেই মনে হয়, সঠিক করে বলতে পারি না। মানে আমি তোমারে চাই, চাই মানে চাই এই কথা আর নাই। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

ব্যান্ডসাংগীতিক হাওয়ায় নিঃশ্বাসবাহী দিনগুলো / জাহেদ আহমদ

[গানসংখ্যা-১]

concert 1

রণজিৎ দাশ, ইন্ডিয়ান-বাংলা সাহিত্যে এক মৌলিক কবিস্বর, পশ্চিমবঙ্গে মুক্তির দশক হিশেবে খ্যাত গত শতকের সত্তরের গোড়ায় লেখালেখিজগতে আবির্ভাব তার, ‘ছেলেকে বলা রূপকথা’ নামে একটা কবিতা লিখেছিলেন, কবিতাটা পাওয়া যায় ‘সময়, সবুজ ডাইনি’ শীর্ষক বইয়ের আওতায়; বিউটিফুল একটা হরর অ্যাটমোস্ফিয়ার, স্যুরিয়্যাল বাতাবহ, কবিতাটাতে আগাগোড়া টানটান থাকতে দেখা যায়। “আমার গায়ের মানুষগন্ধে একটা রাক্ষসী একবার খুব উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল। আমি বুঝতে পারিনি, রাক্ষসী ছিল তোর মায়ের ছদ্মবেশে। সে অনেক দিন আগের কথা। তখনো তোকে আমরা কাশবনে কুড়িয়ে পাইনি। দিনটা ছিল শ্রাবণের, অল্প অল্প বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া আর মেঘের ডাক। এমন দিনে মঠ-মন্দিরের সাধুরাও ছটফট করেন, রাত্রি হলে প্যাঁচার গলায় অন্ধকারকে ডাকেন।” — কবিতাটা স্টার্ট করে এইভাবে। Continue reading

2 Comments

Filed under সারথি

অর্ণব এবং “অন্যরকম” বিষয়ক বোঝাপড়া / আনিকা শাহ

[গানসংখ্যা-১]

অর্ণব

অর্ণবের গান নিয়ে লিখতে বসা আমার জন্য ঝক্কির হিসাবে প্রমাণিত হল মূলত এই কারণে যে অর্ণবের গান আমার ভালো লাগে। এবং কেনভালো লাগে ঐটা নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবি নাই। আড্ডায় অর্ণব-প্রসঙ্গ উঠালে পর যা-যা জানা গেল তা-তা মোটামুটি তাঁর গানের কথা, সুর, গায়কী, গলার স্বর, গানে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, গানের বিষয়বস্তু এবং আবহ থেকে শুরু করে তাঁর চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব পর্যন্ত মোটাদাগে কভার করে। অর্ণবের গানের লিরিক অন্যরকম, রোজকার যা-ঘটে তা নিয়েই লেখা, কিন্তু অন্যভাবে। গানের কথার সাথে রিলেট করা যায়। গানের সুর, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ভ্যারিড, ফিউজ্‌ড্‌, এক্সপেরিমেন্টাল। অর্ণবের গলা, গায়কী একজন বলল সুদিং লাগে। আরেকজনের মতে অর্ণবের সমগ্র ব্যক্তিত্বটাও একটা কারণ তাঁর গানকে ইন্ট্রেস্টিং লাগার। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

কেন ‘দইয়ল’? / সুমনকুমার দাশ

[গানসংখ্যা-১]

কেন দইয়ল?- ইদানীং এমন প্রশ্নের মুখোমুখি বার বার হতে হচ্ছে। দইয়ল বেরোনোর বেশিদিন হয়নি। মাত্র তো একটি খ- বেরোলো, তা-ও কার্তিক মাসের ১ তারিখ (১৬ অক্টোবর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ)। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠকেরা পত্রিকাটি গ্রহণ করেছেন- সেটা সম্পাদক হিসেবে আমার জন্য একটু আনন্দেরই বটে। শুরুতে এটি বলে নেওয়া দরকার যে, কোনও লাভজনক কিংবা বাণিজ্যমুখী চিন্তা থেকে দইয়ল প্রকাশ করা হয়নি। জানি, এ-কথা বলার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে/উঠতে পারে- তবে গাঁটের পয়সা খরচ করে কেনই-বা পত্রিকাটি প্রকাশ করা?

দইয়ল

উপর্যুক্ত প্রশ্নের কোনও যুৎসই উত্তরও আমার কাছে নেই। তবে এটুকু অন্তত বলে রাখি- অনতিপ্রচারিত বাংলাগানের নানা ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যেই পত্রিকাটির যাত্রা শুরু। আমরা বিশ্বাস করি, পত্রিকাটি কেমন কাগজে বেরোলো কিংবা কারা প্রকাশ করল- সেটা মুখ্য নয়, মূল কথা পাঠকের কাছে ভালো লেখা পৌঁছে দিতে পারলে সেটা তাঁরা গ্রহণ করবেনই। পাঠক-প্রত্যাশা মেটানোই হলো বড়ো কথা। আমাদের কেবল তো পথচলা, দেখা যাক কতদূর এগোনো যায়! Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

আমার মেঘদল / ইলিয়াস কমল

[গানসংখ্যা-১]

মেঘদল‘মেঘদল’ এর কথা বলার জন্য আমাকে একটু পেছনে তাকাতে হবে। সেইটা ২০০৬ সালের কথা। আমি তখন পুরোদমে ছাত্র ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলা কমিটিতে রাজনীতি করি। সেই সময় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ফেব্রুয়ারিতে। সেই সম্মেলনে যোগ দিতে ময়মনসিংহ থেকে সদলবলে ঢাকায় আসলাম। উদ্বোধনী দিনে রাজু ভাস্কর্য চত্বরে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছাত্র ইউনিয়নের আমন্ত্রিত ব্যান্ড ‘চিৎকার’ আর ‘মেঘদল’। দুইটা ব্যান্ডের গান আমি সেবারই প্রথম শুনি। চিৎকারের কয়েকটা চমৎকার গান শোনার পর (যার মাঝে একটা ছিলো হাট্টিমাটিম টিম লইয়া গবেষণা চালাইছে) মেঘদল মঞ্চে দাঁড়ায়। সেই আমার মেঘদলকে চেনার শুরু। যা এখনও ধারাবাহিক। সেইবার ‘মেঘদল’ ওঁম, ক্রুসেডসহ চার-কি পাঁচটি গান গায়। বায়োস্কোপের নেশা আমার যেমন ছাড়ে না, তেমনি চেপে বসে মেঘদলের গানের নেশাও। Continue reading

1 Comment

Filed under সারথি

আধিপত্য, সংস্কৃতিস্থিতাবস্থা, ব্যান্ডসংগীতের লড়াই / মাকসুদুল হক

[গানসংখ্যা-১/রিপ্রিন্ট]

 

গানসংখ্যায় ম্যাক লালজীপের ডায়েরী

maqsudএই লেখাটা লালজীপের ডায়েরীতে ছাপানো হচ্ছে এর গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা মাথায় রেখেই। রিপ্রিন্ট। ঠিক রিপ্রিন্ট না-বললেও হয়তো অশুদ্ধ হতো না। কারণ রচনাটা মাকসুদুল হক, তথা ম্যাক, লালজীপের জন্য নতুন করে না-লিখলেও রচনাটাকে আমরা আদৌ পুরনো বলতে চাইছি না। ব্যাপারটা এ-ই যে, ম্যাক আজ থেকে দেড়-দশক বা তারও বছর-কয়েক আগে এই বিষয়াশয় নিয়ে ভীষণ সোচ্চার হয়েছিলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার সর্বার্থেই বিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করে একলা-একাই নিজের লড়াইটা চালায়ে গেছেন। লড়াই চালায়েছেন তিনি লিরিক্স দিয়ে, স্টেজ-পার্ফোর্ম্যান্স দিয়ে, এবং লেখাল্মদখি সহ বামবাকেন্দ্রিক ও বামবার বাইরে ব্যক্তিক অবস্থানগত সক্রিয়তা দিয়ে। এই-সমস্ত সোচ্চার সব্যসাচী ক্রিয়াশীলতায় ম্যাক বাংলাদেশের ব্যান্ডমিউজিকটাকে একটা ম্যাচিউর প্ল্যাটফর্মে যেতে সেই-সময় সিগ্নিফিক্যান্ট ভূমিকা রাখতে পেরেছেন। আমরা তার একলষেঁড়ে লড়াইদিনগুলো প্রত্যক্ষ করেছি অনেকেই নিশ্চয়।

Music-Band

Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

জেনেসিস ২০০০ / এম. এস. রানা ও রাসেল আজাদ

[গানসংখ্যা-১/রিপ্রিন্ট]

gan[বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের যাত্রাপুস্তক থেকে কয়েকটা চ্যাপ্টার এই ফিচার-আর্টিক্যলের উপজীব্য। রচনাটা ছাপা হয়েছিল ২০০০ খ্রিস্টাব্দের আনন্দভুবন  ঈদসংখ্যায়। বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৬, ০১ জানুয়ারি ২০০০। অধুনালুপ্ত শোবিজ-নিউজ-ভিউজপ্রচারক এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন কায়সুল হক; বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের পয়সায় এইটা ছাপা হতো বাংলাদেশের ক্যাপিট্যল ঢাকা থেকে। বেক্সিমকো গ্রুপের তখন পুঁজিকীর্তিকলাপ রমরমা, বাংলাদেশের ব্যাঙ্কিং সেক্টরে প্রায় বারোটা বাজানোর আগ পর্যন্ত অতিকায় ঋণখেলাপি অর্থগৃধ্নু এই গ্রুপের মিনিমাম পাঁচটা-সাতটা কাগজ ছিল বাজারে, এর মধ্যে একটা বার্ধক্যঝোঁকা সাহিত্যসেবায় নিবেদিতপ্রাণ শৈলী  এবং একটা এই বিনোদনপাক্ষিক আনন্দভুবন, ছিল আরও দৈনিক-ফ্যাশনাইকোনিক-স্পোর্টস মিলিয়ে ভ্যানতারা নানা কাগজ ঝলমলে লেবাসের। হেন বিজনেস তখন কমই ছিল ভূবাংলায় যা বেক্সিমকো গ্রুপের প্রিপে/গ্রাসে গরহাজির। কাদামাটি থেকে চিনামাটি, ভ্রুণরোধক বেলুন, মৃতসঞ্জীবনী মলম বেচার বিচিত্র ব্যবসা তাদিগের করপুটে ধরা ছিল। ধরা খাবার বাদে একে একে মিডিয়াব্যবসা তথা পত্রিকা তামাদি হয়ে যেতে থাকে; শেষমেশ শেয়ারচুরির হিস্যা সাবড়ানোর পর মহাডাকাতিতে সাময়িক ইস্তফা দিয়ে এখন জ্বরের বড়ি বিক্রিবাট্টায় মার্জিন অবশ্য মন্দ থাকে না। যা-হোক, আনন্দভুবন  পত্রিকাটা সার্ভ করেছে এক-সময় বাংলা কাল্চারের বেশকিছু জমিজিরেতের ক্ষেতখামার উন্নয়নে। এরা সারেগারে  নামে একটা আলাদা পার্ট প্রবর্তন করেছিল পত্রিকাভ্যন্তরে স্পেশ্যালি ডেডিকেইটেড টু বাংলা মিউজিক অ্যান্ড মিউজিশিয়্যান্স। পত্রিকা উইদিন পত্রিকা, দারুণ, বলা বাহুল্য। ঘটনাটা আজও স্মরণীয়; অদ্যাবধি দ্বিতীয় নজির, আনন্দভুবনতুল্য প্রোফেশন্যাল বিনোদনম্যাগ, লোকসমক্ষে অ্যাবসেন্ট। তো, ওই পত্রিকায় বেরিয়েছিল ‘জেনেসিস ২০০০’ শীর্ষক ফিচারটা, ব্যান্ডের অত্যন্ত জনপ্রিয় ডজনখানেক গানের আঁতুড়কথন ও ভূমিষ্টক্ষণ নিয়া আদ্যোপান্ত রচনাটার মূল অনুসন্ধিত্সা। গানমহাজনেরাই নিজেদের একটা করে গানের জন্মেতিহাস ও বিকাশ বর্ণনা করেছেন। গোছগাছ করে লেখাটা ছাপা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট গানের গিটারকর্ড সমেত গোটা গানটার লিরিক্স। অথার্ড বাই এম.এস. রানা অ্যান্ড রাসেল আজাদ। সেই লেখাটাই রিস্টোর করা হলো অবিকল এইখানে, কেবল গিটারকর্ড দেয়াটা হ্যাপা বিবেচনায় এক্সক্লুড করা গেল। অদ্যকল্য ইউটিউবে গানগুলো শোনা যায়, লিরিক্স কর্ডসমেত রিটেন ফর্মেও সুলভ, এবং কর্ণে শুনিয়া সাউন্ড-কর্ড-নোট সমস্তই রিকন্সট্রাক্ট করা আদৌ কঠিন কিছু তো না। কাজেই ফিচারটার লেখারূপের বলা যায় এইটা পরিবর্তিত প্রকাশমাধ্যমে পুনর্প্রিমিয়ার। Continue reading

Leave a comment

Filed under সারথি

ক্যাপ্টেন ক্যাপ্টেন / রুহুল মাহফুজ জয়

O Captain! my Captain! our fearful trip is done,
The ship has weather’d every rack, the prize we sought is won,
The port is near, the bells I hear, the people all exulting,
While follow eyes the steady keel, the vessel grim and daring;

O Captain! my Captain! rise up and hear the bells;
Rise up—for you the flag is flung—for you the bugle trills,
For you bouquets and ribbon’d wreaths—for you the shores a-crowding,
For you they call, the swaying mass, their eager faces turning;

[O Captain! My Captain!/ Walt Whitman]

...

রুবেল হোসেনের করা ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে জেমস অ্যান্ডারসনের স্ট্যাম্প নেই। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ। স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের হোমগ্রাউন্ড অ্যাডিলেড ওভালের সবুজ গালিচায় মুখ লুকিয়ে শুয়ে দলনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। একী! মাশরাফি কী কাঁদছেন! নাকি স্যার ডনের মাঠের কানে কানে কিছু বলছেন? তা বোঝার উপায় ছিলো না। সতীর্থরা যে একে একে অধিনায়কের উপর এসে হুটোপুটি খাচ্ছেন। এমন মুহূর্তে পাষাণভার হৃদয়ও তো কেঁপে ওঠে আবেগে, ভালবাসায়, শ্রদ্ধায়।

Kamal al-Fekiযারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিন্দুমাত্র খবর রাখেন, তারাও জানেন মাশরাফি সম্পর্কে। পৃথিবীতে কোন ভাষায় এমন বিশেষণ নেই, যা দিয়ে তাঁকে বিশেষিত করা যায়। প্রায় দেড়শ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাস ঘাটলেও মাশরাফির তুল্য ক্রিকেটীয় চরিত্র পাওয়া যাবে না। হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে একবারেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় বেশিরভাগ ক্রীড়াবিদের। ফাস্ট বোলার হলে তো কথাই নেই। সেখানে মাশরাফির দুই হাঁটুতে সাতবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। দুনিয়াখ্যাত শল্যবিদ ডা. ডেভিড ইয়াং (যিনি মাশরাফির হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করেছেন) বারবার অবাক হয়ে বলেন, ও কিভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সেটাই আশ্চর্যের। আর খেলার ব্যাপারটা অভাবনীয়। Continue reading

2 Comments

Filed under সারথি