কারখানার নাম বলিউড / বিধান রিবেরু

বলিউড বাহাস।বিধান রিবেরু

২০১০ সালের ডিসেম্বরে শাহরুখ খান বাংলাদেশে এসে এদেশের মানুষের সঙ্গে অসভ্যতা ও খাটো করার প্রয়াস পেয়েছেন এবং সেটা দেখে অনেক ভক্ত (ভোক্তা) হেসে কুটিকুটি হয়েছেন। কিছুদিন পর সালমানের টাওয়াল নৃত্য দেখেও ভক্তরা হয়েছেন আপ্লুত। এরপর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপাশা, মালাইকার প্রায় উলঙ্গনৃত্য এবং বাপ্পি লাহিড়ির ‘উ-লা-লা’ শুনে ‘বিসমিল্লাহ’ হয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটম্যাচ বিপিএলের। এদের ভাবখানা এমন ভারতীয় শিল্পীদের না আনলে ঠিক জাতে ওঠা যায় না। এবং এদেশের মানুষ ও প্রথম সারির গণমাধ্যম বেশ গদগদ মেজাজে আমোদ নিয়ে সেসব সংবাদ প্রচার করেছে। জনমানসে বলিউড স্টারদের দেখার যে বাসনা, বিশেষ করে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের দেশের টেলিভিশন পর্দায়, সেটা একদিনে গড়ে ওঠেনি, দীর্ঘ দেড় দুই দশক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ভারতকে। এদেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য- টুথব্রাশ থেকে শুরু করে গায়ে মাখার সাবান, এমনকি সকালের নাস্তার উপাদানও যখন বাজার দখল করে নিয়েছে তখন একইসঙ্গে কাজটি সম্পাদন করেছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিও। একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ভোক্তা নির্মাণ অন্যদিকে বিশেষ সংস্কৃতির একনিষ্ঠ ভক্ত তৈরী। দুই কারখানা থেকেই ভোক্তা ও ভক্ত নির্মাণের এই সাযুজ্যকে অনেক আগেই, মানে আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগেই সনাক্ত করেছিলেন জার্মান চিন্তাবিদ ম্যাক্স হর্কহেইমার ও থিওডর অ্যাডর্নো। ধনতান্ত্রিক সমাজে সাংস্কৃতিক পণ্য উৎপাদন, সেই পণ্যের চরিত্র ও ভোক্তা, তাদের মূল বৈশিষ্ট্য আমলে নিয়ে গোটা বিষয়টার নাম তাঁরা দিয়েছিলেন সংস্কৃতি কারখানা (culture industry)। শব্দ বন্ধটি ১৯৪৭ সালে ‘চেরাগির বাহাস’ (dialectic of enlightenment) গ্রন্থে প্রথম ব্যবহার করেন হর্কহেইমার ও অ্যাডর্নো। ‘সংস্কৃতি কারখানা’ (the culture industry) বইতে তেমনটাই উল্লেখ করেন থিওডর অ্যাডর্নো। বর্তমান নাতীদীর্ঘ রচনায় আমরা আলাপ করবো শাহরুখ খান থেকে বাপ্পি লাহিড়ি এবং খোদ বিপিএল নামক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আয়োজন সংস্কৃতি কারখানার পণ্য বই কিছু নয়। আর আমরা সেই পণ্যের বোকা বোকা সব খরিদ্দার।

সংস্কৃতি কারখানার পণ্য নিয়ে কথা বলার আগে আদতে সংস্কৃতি কারখানা জিনিসটা কি, সেটা নিয়ে দু’চার কথা বলা গুনাহর কাজ হবে না। হর্কহেইমার ও অ্যাডর্নোর মতে, সংস্কৃতি কারখানা শ্রেণীচেতনার বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়। এই কারখানার সাহায্যে শাসকশ্রেণী সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের এক চমৎকার হাতিয়ার পায়। চিন্তাবিদ সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল ও মার্কসবাদ’ বইতে আন্তোনিও গ্রামশির দোহাই দিয়ে বলেন, ‘সংস্কৃতি কারখানা ধনতান্ত্রিক মতাদর্শগত আধিপত্যের পুনরুৎপাদন করে, শ্রমিকশ্রেণীর চেতনার উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে, শাসকশ্রেণীর পক্ষে সামাজিক সম্মতি ও সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি বানিয়ে তোলে।’ থিওডোর অ্যাডর্নো ‘দ্য কালচার ইন্ডাস্ট্রি’ বইতে সাফসাফ বলছেন, সংস্কৃতি কারখানায় জনগণকে থোরাই কেয়ার করা হয়, এই কারখানায় মুনাফাই আসল। এখানে দর্শক শুদ্ধ ভোক্তা, তারা নিষ্ক্রিয়। যদিও ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ধারণা দেয়া হয় ক্রেতা বা ভোক্তাই রাজা, আসলে ভোক্তা বা দর্শক এখানে অবজেক্ট মাত্র, সাবজেক্ট নয়।

হর্কহেইমার ও অ্যাডর্নো সংস্কৃতি কারখানায় কেন একইরকম পণ্য বারবার তৈরী হতে থাকে সেটা খুব পরিষ্কার করেই বলেন: মুনাফা ও উত্তরোত্তর এই মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি করা। কোনো জিনিস যদি একবার বাজার মাত করে তাহলে সেটাই মুনাফার উদ্দেশ্যে বারবার ঘুরেফিরে উৎপাদন হতে থাকে। যেমন ফর্মুলা চলচ্চিত্র বা একই ধাচের গান ইত্যাদি। তাই তো শাহরুখ খান কিংবা শাকিব খানরাই ফিরেফিরে আসতে থাকেন বিভিন্ন চলচ্চিত্রে, বিজ্ঞাপন চিত্রে, বিভিন্ন স্টেজ শোতে। কারণ পাবলিক তাদের ‘খায়’ ফলে ঝুকি না নিয়ে তাদেরকে উপাদান হিসেবে কারখানার পণ্যে ব্যবহার করা হয়। এসব পণ্যের প্রমিতকরণ বা স্ট্যান্ডারডাইজেশনের মাধ্যমে চালান করা হয় ভুয়া-ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ বা স্যুডো ইনডিভিজুয়ালিটি। প্রমিতকরণের বিষয়টা পষ্ট হবে ভারতের স্টেজ ও টিভি শো এবং বাংলাদেশের স্টেজ ও টিভিতে যখন একই মুখ প্রায় একই রকম নাচগানের পরিবেশনা থেকে। ধরি, মালাইকা আরোরা নাম্নী এক আইটেম সঙ ড্যান্সারের কথা। এই ভদ্রমহিলাকে ভারতীয় টিভিতে দেখেই আমরা অভ্যস্ত। ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ শিরোনামধারী গানের সঙ্গে যৌন আবেদন দিয়ে যেভাবে তিনি অঙ্গভঙ্গি করেন, সেটার একটা বড় ভোক্তা শ্রেণী তৈরী হয়েছে এদেশেও, অবশ্যই স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে। এখন শুধু হিন্দি গান বা মালাইকার নাচ নয় পণ্য হিসেবে ভারতীয় তেল সাবানও বিক্রি হয় এদেশের বাজারে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে কমপক্ষে দুটি দিককে আক্রান্ত করতে পেরেছে এই স্যাটেলাইট চ্যানেল (বাংলাদেশে অধিকাংশই ভারতীয় চ্যানেল)। দেশীয় পণ্যের বাজার নষ্ট করে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং চটুল ও যৌন সুরসুরি মার্কা হাল্কা বিনোদন দিয়ে সাংস্কৃতিক অবক্ষয়- দুটোই চলমান। কিন্তু এটা হওয়ারই ছিলো। সংস্কৃতি কারখানা যেহেতু পুঁজিবাদী সমাজের অপরিহার্য অঙ্গ, তাই ব্যবসায়িকভাবে সফল পণ্যকেই প্রমিত ধরে, সেরকম পণ্যই বারবার, সীমানা পেরিয়েও তৈরী হতে থাকে। আবার পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট করার কায়দা কৌশলে তৈরীকৃত ফর্মুলা ব্যবহারের ঘটনা তো আছেই।

ইদানিংকালের বড় উদাহরণ ক্রিকেট খেলার টুর্নামেন্ট বিপিএল, যা আপাদমস্তক ভারতীয় টুর্নামেন্ট আইপিএলের নকল। কেউ যদি দলের নাম ও লোগোগুলোকে খেয়াল করেন, দেখতে পাবেন কি নিদারুণ মিল। ঠিক যেমনটি দেখা যেত ষাট সত্তুর সালের দশকে ভারতীয় রূপালি পর্দার নায়কদের কপালে একগুচ্ছ চুল পেচিয়ে পড়ে আছে, যেন তারা সকলেই এলভিস প্রিসলি। সংস্কৃতি কারখানার কারিগররা জোর দাবী করবেন, যত কিছুই হোক, পার্থক্য থেকেই যায়। যতই বলা হোক, আইপিএল ও বিপিএল হুবহু এক নয়। খাপে খাপে মেলানো যাবে না শাহরুখ খান ও শাকিব খানকেও। কিন্তু আমরা তো জানি দুই খানকে দুই ইন্ডাস্ট্রির কিং খান বলা হয়। এসব বিষয় আমলে নিয়ে হর্কহেইমার ও অ্যাডর্নো উদাহরণ টানেন তালা চাবির। পৃথিবীতে লাখ লাখ তালা চাবি নির্মিত হয়। এক তালার চাবি দিয়ে অন্য তালা খোলা যায় না। তবে এই পার্থক্য একেবারেই সামান্য। চাবির কয়েকটি খাজের উপর ভিত্তি করেই এই পার্থক্য গড়ে ওঠে। ঠিক তেমনি সংস্কৃতি কারখানাতেও সামান্য ফারাকের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে চলচ্চিত্র, গান, উপন্যাস, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইতি আদি। অতএব যতই শাহরুখ থেকে শাকিব আলাদা কিংবা আইপিএল থেকে বিপিএল ভিন্ন বস্তু বলে দাবী করা হোক না কেন, এরা আদতে একই চিজ। আর এখানেই তৈরী হয় ভুয়া ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ। যতই বলা হোক, ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ আর ‘মাই নেম ইজ শিলা’ এক নয়, আমরা বলবো এ দুয়ের পার্থক্য দুই তালার দুই চাবি সমান। ঠিক একই কথা খাটে আইপিএল আর বিপিএলের বেলায়।

বাংলাদেশের মাটিতে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ভাষার সম্মানে একদিকে আয়োজন করা হয় বইমেলার, আবার একই মাসে আমন্ত্রণ করে গাওয়ানো হয় হিন্দি ‘ডার্টি পিকচার’ ছবির চটুল ও সস্তা ‘উ-লা-লা’ গান। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? ভাষার মাসে কি ভাষার প্রতি ভালোবাসা নাই হয়ে গেলো? উল্টো প্রশ্নও আসতে পারে: ভাষার মাসে কি অন্য ভাষার গান শোনা বারণ? এই দুই প্রশ্নের একটাই উত্তর: বাজার আছে যেখানে সংস্কৃতি কারখানার পণ্য যাবে সেখানে। এদেশে ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ ধরনের ফালতু নাচগান দেখার নিষ্ক্রিয় ও পলায়নপর ভোক্তা তৈরী করতে পেরেছে ভারত। ভাষার মাসে অন্য ভাষার গান আরো বেশী করেই শোনা যায়, কারণ আন্তর্জাতিকভাবেই ২১ ফেব্রুয়ারিকে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অনেকেই হয় তো নিয়মিতভাবেই উর্দুগজল বা ব্লুজ ঘরানার গান শোনেন। তাছাড়া যারা হিন্দি যৌন সুরসুরিমার্কা অথবা ইংরাজি গালিগালাজেপূর্ণ গান শুনছেন তাদের তো জেলে ভরা যাবে না, তাদের ঠেকানোর শক্তি বা ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এতটুকু বলা যায়- জনপ্রিয়তার নামে একই জিনিস বারংবার উৎপাদন করাই সংস্কৃতি কারখানার বৈশিষ্ট্য আর উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন। বিপিএলকে কেন্দ্র করে শতশত কোটি টাকা উড়ানো হয়েছে সেটা কে না জানেন? অথচ মাতৃভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার জন্য কেউ টাকা খরচ করতে নারাজ। ভাবতে অবাক লাগে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর এখনো অধিকাংশ উচ্চশিক্ষার ভাষা ইংরাজি, এখনো আদালতে বাংলার প্রচলন পুরোপুরি শুরু হয়নি। নিজের মায়ের ভাষায় বিজ্ঞান, দর্শন, আইন বিভিন্ন বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেলে এদেশে শিক্ষার প্রসার আরো হতো। আমরা ইউরোপের দিকে তাকালেই বিষয়টা ধরতে পারবো। ইউরোপ কেন, চীনেই তো নিজেদের ভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা ও লেখাপড়া হয়। এমনকি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমও তারা করে নিয়েছে নিজেদের ভাষায়। এসব ছাড়াও সমাজের উন্নয়নে কাজে আসবে এমন কোনো কাজে এতো টাকার ছড়াছড়ি চোখে পড়ে না। কারণ সেসব ক্ষেত্রে আর্থিক মুনাফা নাই। পুঁজিপতিদের তাই ওসবে ব্যাপক অনীহা। তাদের চাই একই রকম পণ্য, যে পণ্যটি অন্য বাজারে মুনাফা অর্জন করেছে, ঠিক সেরকম পণ্য।

এই যে পুনরাবৃত্তিমূলক, একই ছাঁচে সাংস্কৃতিক কিংবা ক্রীড়া পণ্য তৈরীর চেষ্টা, সেটাকে হর্কহেইমার ও অ্যাডর্নো তুলনা করেন কারখানার অ্যাসেম্বলি লাইনের সঙ্গে। কারখানায় তৈরী সকল পণ্যই প্রমিতিকৃত। এসব কারখানায় নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র দেখেই দর্শক বুঝে ফেলেন কে ভালো আর কে খারাপ এবং শয়তানের শেষ পরিণতি কি হবে। এবং সেটা মিলেও যায়। একইভাবে সংস্কৃতি কারখানায় উৎপন্ন হয় গান। একটি গানের মুখ শুনলেই শ্রোতা আন্দাজ করতে পারে স্থায়ী কি হবে। কারণ আগের কোনো একটা হিট গানেরই তো কপি হয়েছে ঐ গানটি। তাই আইপিলে যা দেখে আমোদিত হয়েছিলো দর্শক ও ভোক্তা, সেটাই যখন বিপিএলে পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন এবং সেটা পেয়েও যান তখন আত্মতৃপ্তি বোধ করেন ঐ ভোক্তা। এই কারাখানায় চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই তৈরী করা হয় পণ্য। তাই সংস্কৃতি কারখানার পণ্য এতোটাই একঘেয়ে, স্টেরিওটাইপ। বলতে পারেন নকলের মহোৎসব। সেজন্যই হলিউডি সিনেমার কাউবয়মার্কা ড্রেস দেখা যায় বলিউডে এবং একই জিনিস পুনরায় উৎপাদিত হয় ঢালিউডে। মুনাফা, মুনাফা এবং মুনাফা। একই কারণে বিজয় দিবস হলেও হাজার হাজার টাকা খরচ করে মানুষ শাহরুখের ভাড়ামি আর রানি মুখার্জীর খোলা পেট দেখতে স্টেডিয়াম যান অথবা টিভি সেটের সামনে প্রস্তুতি নিয়ে বসে পড়েন। একই কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে আইয়ুব বাচ্চুকে দিয়ে কোনো রকম দায়সারা গোছের একুশে ফেব্রুয়ারি গান গাইয়ে হিন্দি গানের সঙ্গে বিপাশা আর মালাইকার অর্ধনগ্ন শরীর দেখানো হয়। একই কারণে এদেশের প্রেক্ষাগৃহে আমদানী করা হয় ভারতীয় চলচ্চিত্র।

এই বলিউড কারখানা থেকে যা উৎপাদিত হচ্ছে সেটার সাফল্য দেখে বাইপ্রোডাক্ট তৈরী হচ্ছে নানাভাবে, নানা জায়গায়। এজন্যই শাহরুখ, মালাইকারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পান। বিজ্ঞাপন তৈরী হয় তারকাদের দিয়ে। কারণ তারা বলিউড সংস্কৃতি কারখানার সফল কাঁচামাল। মজার বিষয় এই বলিউড সংস্কৃতি ভারতের সঙ্গীতাঙ্গন থেকে শুরু করে টিভি সিরিয়াল এমনকি বিজ্ঞাপনকেও দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। ওরা যেন বলিউডের বাইরে বেরুতেই পারছে না। আর আকাশ সংস্কৃতির দৌলতে নেপাল, ভূটান ও বাংলাদেশেও এর প্রভাব চোখে পড়ার মত। আমাদের দেশে ঈদ কিংবা পূজা, সব অনুষ্ঠানেই মেয়েদের কি ছেলেদের নতুন ধরনের পোশাকের নাম হয় বলিউডের নায়ক নায়িকাদের নামে। আমাদের সামাজিক অনুষ্ঠানের কথা আর কি বলব! সেখানেও বলিউড আছে একচ্ছত্রভাবে। কাজেই বলিউড কারখানার এই সর্বগ্রাসী চরিত্র নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবা দরকার। এই সংস্কৃতি কারখানা থেকে বাস্তববিমুখ চটকদার পণ্য উৎপন্ন হচ্ছে একের পর এক। আমরাও সেগুলো চেটেপুটে খাচ্ছি দিবারাত্র। প্রশ্ন হলো বদহজমটা হবে কবে?

সহায়ক গ্রন্থ
১. Theodor Adorno, The Culture Industry (২০০১), Routledge, Indian edition ২০০৭
২. সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল ও মার্কসবাদ (২০০৪), প্যাপিরাস, কলকাতা

...

বিধান রিবেরুবিধান রিবেরু
গদ্যকার

1 Comment

Filed under সারথি

One response to “কারখানার নাম বলিউড / বিধান রিবেরু

  1. মাজুল হাসান

    খুব জরুরী প্রশ্ন- সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। যার লেজ ধরে বা যার অন্তরআত্মাতেই বসত করে বাণিজ্যভাবনা। তাই ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায়উলঙ্গ মালাইকা/মল্লিকা হোয়াটএভারের খেমটা-নাচ, জুয়ার কারখানা খাটো-ক্রিকেট লিগ ইত্যাদিকে ন্যায়-অন্যায়ের নিরিখে বিচারের সুযোগ কম। কারণ, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষা যথা: পয়লা বৈশাখ উৎযাপনের নামে মানুষকে বাজারমুখি করে তোলার ফন্দিফিকিরও আদতে সংস্কৃতি লালনের নিমিত্তে নয়। দুটোর পেছনেই আছে লক্ষ্মির কৃপালাভের বাসনা। বলা যেতে পারে, পয়লা বৈশাখের বাণিজ্যের বড় অংশটাই করে দেশীয় বুটিক/বাটিক/ফ্যাশন হাউজগুলো, তারা টুপাই কামালে ক্ষতি কি? ক্ষতি হলো : বাজারমুখিতা, হুজুগী একটা জাতিতে রূপান্তরিত করা। আজ যে দেশীয় বাটিক/ছাটিক সেক্টরে বিদেশী বা বহুজাতিক পূজির থাবা নাই, কাল সেই সেক্টরেই বহুজাতিক নখ বেরিয়ে আসতে পারে। তখন পয়লা বৈশাখে বোতলজাত ইলিশ বা ফ্রজেন ইলিশ আর বাতাসা-বালিশ বেচবে করপোরেটগুলো। তখন হয়তো লালপাড় শাড়ি পরে র‌্যাম্পে দেখা যাবে রানি-কারিনা-জলি-মিল ধুনফুনদের। উদ্দাম উলঙ্গ নাচও হতে পারে। পুনশ্চ: উলঙ্গ বা লম্বা বহরের ঘাঘরা সংস্কৃতির রক্ষা বা বিনাসের ধারক-বাহক নয়, (সাম্বা ফেস্টিভেলকে কি বলবেন তবে?) বিষয়টা হলো অর্থকাঠামোর, যেমন কড়ি, তা নিয়ে যেইরূপ কাড়াকাড়ি, সেই নিমিত্তে বিছানা কিংবা মাঠে-ময়দানে-স্টেজে গড়াগড়ি হতে বাধ্য।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s