মাহবুব শাহরিয়ারের গুচ্ছ কবিতা

বৈশাখের রচনা

...

 

হেই ইউ

তুইই টার্গেট
সালফারের আর গানপাউডারের
কপাল খারাপে পেট্রোলবোমার।
তর পেটে ক্ষুধা
ডেইলি লাইফ
বড্ড সাদা ।
তুইই একমাত্র টার্গেট কাদিরা
তুই।
তারা কইবো হেই ইউ (পিঙ্ক ফ্লয়েড)
তুই তাকাইবি
হাইওয়ের মোড়ে
তরে উপহার দিবো
সালফার, গানপাউডার, স্লিন্টার কিংবা পেট্রোল বোম।
 

এইসব শীতের রাইতে

শীতের রাইতে ফুল
ফোটে —
নাকি কুয়াশা ঝরে
মাঝখানে চুমু খরখরে।
হুগনা ঠোঁটে
তোমার তিব্বত পমেড
আমার আর কি লাগে
ওইটাই চলে।
এইসব
শীতের রাইতে
 

পোস্টমডার্ন কবিতা

হেই বেইব
তোমার ওড়নারে ভালা পাই্‌
সে নিজের জায়গায় থাকে না
গলায় গিয়া ঝুলে তোমার ।
আমার লেগা উন্মুক্ত
তোমার দিল্,
আমি দেহি
চায়া চায়া।
হেই সুন্দরী
কাজল মাখাইছো চোখে
দেখলাম তোমার
১০ মেগাপিক্সেল সেলফিতে ।
বুঝছি,
আইবা আজকা ঘরে
আমার দুয়ারে
গোপন অভিসারে ।

ফটোগ্রাফি-২ঃ ইমরান ফিরদাউস

ধৃত আলেকজান্ডার

তুমি ধরা মামা
তুমি ধরা
লিপগ্লস আর মাদক পারফিউমের
জালে তুমি ধরা।
তুমি আছিলা রকস্টার
ঠোঁটে সিগারেট
কালো রাস্তার পাশের দোকানের
বিপ্লবী অঙ্গার ।
মাদক পারফিউম আইলো
লিপগ্লস চমকাইলো
তুমি ধরা দিলা
আদিম কন্সপিরেসি থিওরিতে,
ঠিক আদি পিতার মতন।
খুইলা দিলো বেশভূষা
বানাইলো মহাবীর আলেকজান্ডার
আধা আলো আর আধা আন্ধার
বীরের বেশে সাজাইলো না তোমারে
কেউ আর।
ফটোগ্রাফি-৩ঃ ইমরান ফিরদাউস

পলিগ্যামি শহরে

হাঁসের দুইটা পালক উইড়া আইসা পড়লো সামনে

দেইখা মনে হইলো রাজহাঁসের পালক

একটা দিয়া কান চুলকানি আরম্ভ করলাম

আরেকটা রইলো হাতে
একটু পর হাতের পালকটা বিরাট রাজহাঁস-এ পরিণত হইলো
আমারে কান্ধে নিয়া উড়াল দিবার চাইলো …
আমি কইলাম খাড়াও রাজহাঁস
একটু বহো
আমি আমার পলিগ্যামি শহরের সমস্ত মনোগ্যামিতাকে সঙ্গী কইরা নেই
অর্ধেক পথ পেরোলেই তবে মৃত্যু-উপত্যকায় সমস্ত কাম আর ঘাম ঝাইড়া ফালায়া যামু
ঠিক যেমন রাজহাঁসটা তার পালক ফালায়া ছুইটা গেছিলো জবাই দেওনের আগে
আর আমি ওই পালক দুইটা নিয়া ঘুমায়া ঘুমায়া স্বপ্ন দেখছিলাম পরশুদিন রাতে

 

জাইনো না, বুইঝো না, দেইখো না, ভুইলো না

ভুইলো না বন্ধু ভুইলো না
আমার শার্টের ঘাম
আমার নখ
আমার নাইকির জুতা
আর ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ ভুইলো না
যেমন ভুলতে পারি নাই
তোমার লিপগ্লস
রোদচশমাঢাকা চোখ
নিষ্ঠুর চুম্বন
লজ্জাহীন সমস্ত সময়
ভুইলো না বন্ধু
আমারে ভুইলো না

ফটোগ্রাফি-৪ঃ ইমরান ফিরদাউস

প্রকাশের অপেক্ষায় এপিটাফ

একটা গল্প লিখছি মাথার ভেতর। অনেকদিন ধরেই লিখছি, লিখেই চলেছি। গল্পটা শেষ হচ্ছে না, অনবরত বেড়েই চলেছে। আগা, পাশ, তলা সবদিকে বেড়েই চলেছে। অচেতন গল্পটা শেষ হচ্ছে না, অচেতনভাবেই বাড়ছে যেন এক অটিস্টিক গল্প। চোখ বড় বড় করে চেয়ে আছে আমার দিকে। গলা টিপে মেরে ফেলতেও পারছি না।

একটা কবিতাও লিখছি সেই জন্মের পর থেকে। আমার কোলবালিশের তলায় অবুঝ শিশুর মতো ঘুমিয়ে-থাকা এক কবিতা, যার লেজ কেটে দিলে ও টিকটিকির মত তরতর করে বেড়ে উঠতে চায়। মাঝে মাঝে ঘুমের মাঝে অনুভব করি তার ডুকরানো কান্না , স্পর্শ পাই তার বুকের ধুকপুকানি। উফফ অনিদ্রা যত বাড়ছে কবিতাটাও বেড়েই চলেছে।

আমার একটা গানও আছে, একটা বিপ্লবী গান। ও পাশাপাশি সবার সাথেই হেঁটে বেড়াচ্ছে এখানে, আমার আশপাশ দিয়ে। দেখতে পাই মাঝেমধ্যে আসে আমার কাছে, কোলে বসে আবার সুরটা ঠিক করার আগেই ফাঁকি দিয়ে যায়। বড়ই ধৈর্যহীন এক গান, একদণ্ড বসার নয়। আর বসবেই-বা কি, সে যে জন্ম থেকেই বিপ্লবী।

আমি আবারও লিখছি। এবার বেশ চিন্তাভাবনা করেই লিখছি। একটুও এদিক-ওদিক করবো না ঠিক করেছি। ঠিক করেছি একদম পাথরে খোদাই করে ফেলবো। একটা অক্ষরও পালাতে দেবো না, সব যথাস্থানে বসাবো। হুম, বেশ তাহলে এবারে আমি প্রতীক্ষিত এপিটাফখানাই লিখবো।

শুভ মৃত্যুদিবস …

 

মিতব্যয়ী

একটুর জন্যে ফেরা হয় না।
হাল্কা ট্রাফিকের জ্যামে আর গেটলকে
ঝুইলামুইলা মিরপুর টু সদরঘাট।
মিতব্যয়িতার অপরাধে কেরানির দল
কিংবা মজুর
আর তৃতীয় শ্রেণির পশুকুল
অপেক্ষমাণ ।
শহরের আরেক প্রান্তের
পথচাওয়া —
প্রেয়সী আর মা,
কিংবা মহল্লার বন্ধুরা।
ধীরে চলে বাস
যাত্রীর পকেটের টাকা বড় দরকার মহাজনের।
চলে বাস
মিরপুর টু সদরঘাট,
ঝিমুনি প্রবল
বড্ড লোক্যাল।
প্যারাল্যাল দৃশ্যে বোমাবাজ,
ধর্মবর্ণহীন
চিবিয়ে নেয়া নির্মম ট্যাবলেট ।
কানে হেডফোন,
ঘরে ফেরতা মিতব্যয়ী
কেরানি কিংবা ছাত্রের।
উৎসুক যাত্রীর চোখ,
আরেকটু —
সামনেই সদরঘাট।
ক্রসিং নয়াবাজার,
কিঞ্চিৎ বিশৃঙ্খলা
আর গোত্রহীন পেট্রোল বোতলে —
সলতায় আগুন।
শব্দ ভয়ঙ্কর — শহুরে শেল
আগুনের হল্কা আর যাত্রীর প্যানিক —
চালনা বেসামাল।
মুহুর্তেই এক চলমান ভলক্যানো,
ধোঁয়াময় ভাসমান তাপ
বাতাসে।
হুইসেল, আলফা, চার্লি
তৎক্ষণাৎ বেতারে হেডকোয়ার্টার,
ব্রেকিং স্ক্রলে চোখ স্ক্রিনে সবার।
ঝলসানো সিটকভার
ফাটা উইন্ডোমিরর
সাইরেন —
আর প্রি-বার্ন ইউনিটের আর্তচিৎকার।
এইভাবেই —
ঠিক এইভাবেই
হয় না ফেরা
মিতব্যয়ীদের ঘরে।

imra 2

স্বাদু বরফ

তোমার গোলাপী ঠোঁটে লাইগা-থাকা আইস আমারে ডাইকা কইছে চাইট্যা খাইতে আমি আছিলাম তালেবানের মতন হাইপার ফয়েলের আগায় আছিলো লাস্ট পাফ দেয়ার আগেই কইলা চাইট্যা খাইতে আমিও হাতড়াইলাম হাতড়ায়া পাইলাম তোমার পায়ের আঙুল পাশে আছিলো ফ্যাশনের আলতা কইছিলা ধইরোনা, পায়ে ময়লা আমি শুনি নাই ধরছি হাতাইছি স্বাদ নিছি আর ঠেকাও নাই। আমি তোমার শরীরের লিফটে উইঠা গেছি ঠিক যেমন দামী শপিংমলে উঠি তুমি আর আমি দুইজনে । আমার হাত ঘুরে তোমার সিল্কি দেহে লোমহীন পায়ে উরুতে আর দুনিয়ার সন্ধিস্থলে যেইখানে সবার স্থান আমিও ঘুরি ওইখানে হাতে, পায়ে আর সমস্ত শরীরে খুঁজি নোনা ঘাম নাভীমূলে আমার তীব্র প্রেমের গন্ধ দম বন্ধ কইরা দেয় খুঁইজা পাই কি-জানি-কি ফয়েলটা পায়ে বাজে শেষের ডাস্টটুকু কালা আর তিতা ভালো মাল না তবুও পাফ হয় একটা গতানুগতিক হালে তোমার দামী ব্রা খুলতে পারি না দেখতে পারি না এইবার দেখাও প্রেমিকা বেবি পিঙ্ক এর আড়ালে তোমার অনাবৃত কুসুম কুসুম বুক আমি হারাই চম্পা আর গোলাপী সুবাসে তোমার বিউটি বোন বড্ড বেশি বিউটি আমার গলায় খড়গের মতন আমার ঠোঁটের আগায় বলাকা ব্লেডের মতন আমি ঐ খড়গ আর বলাকা ব্লেডের স্বাদই নেই নিতেই চাই প্রেমিকা জানি যাইতে হইবো তোমার ঐ গোলাপী ঠোটের ঐ আইসের সাম্রাজ্যে

 

 নেশা না কইরা যে গানটা আমি গাইতে চাই

 তোমরা নেশা পানি করছিলা, আমরা করি নাই কিংবা করছিলাম লুকায়া।

আন্ধারে চানটা পলাইছিলো ড্রেনের পানিতে তোমার বমি দেইখা আর কুত্তাটা ঘেউ ঘেউ কইরা দৌড়ানি দিছিলো কয়েকজন রাতজাগা ফটোগ্রাফাররে। একজনের ব্রেকাপ হইছিলো বইলা তোমরা ৪ জন ছুঁতা পায়া মদ খাইলা আমারে থুইয়া, আমি দুঃখে ঘুমের বড়ি খায়া ঘুমাই নাই কারণ ওইটাই পিনিক।
দিনমানে গিটার বাজাইলা ছাদে উইঠা আর পাশের বাড়ির বিবাহিতারে পটাইলা, বোউরে না জানায়া। তোমার প্রেম শুভ হৌক …

ছোটভাইরা হাঁটতাছিলো রাস্তা দিয়া, কে জানি পিছন দিয়া বোতলে মুত ভইরা মাইরা দৌড় দিলো।

আমার ছাদে চাইরটা কবুতর আছিলো, তিনটার সবুজ পায়খানা হয়া ক্লান্ত অবস্থায় মারা গেছিলো। আরেকটা ছাইড়া দিছিলাম তবু মায়া ছাড়তে না পাইরা থাইকা গেছে । যার পিছে ওলা বিলাইটা মাঝে মাঝে দৌড়ায় কুড়মুড়ায়া হাড্ডি চাবায়া খাওনের লোভে ।

রোজার দিনে আজান দিছিলো আর সবাই নামাজে গেছিলো আর আমি খাড়ায়া ওজু করার ভাবনায় ব্যস্ত আছিলাম। আমার বাপে আতর লাগায়া নামাজ পড়তে যাইতাছিলো।

বন্ধু আইছিলো নিশিরাইতে নেশাপানি করতে, বং-এ হুইস্কি ভইরা রঙতামাশা কইরা খায়া সদরঘাটে শুইয়া ঘুমাইতে পারি নাই মশার জ্বালায়। ইন্সটাগ্রামের ভালোবাসায় বাসায় ঘুমাইছিলাম আপনেগো দোয়ায়।
এক বন্ধু ব্লক কইরা দিছিলো ফেসবুকে আরেক বন্ধুরে, কষ্টে একটা জয়েন্ট বেশি খাই নাই। দিতেই পারে …

আমি আস্তে আস্তে নাগরিক হইতাছিলাম এক শহরের। গরিবির গল্প দিয়া ভরা কিন্তু বড়লোক ঠাসা। হাহাকার আর নিঃসঙ্গতা নিয়া সবার মাতামাতি কিন্তু সবার মুখে হাসি। আমি ওই শহরে আগুন লাগাইতে চাইছিলাম হুইস্কি দিয়া কিন্তু আগুন নিভা গেলো, হুইস্কিতে নাকি পানি মিশাইনা আছিলো। হায় পরিহাস! আমার হাফপ্যান্ট ময়লা আছিলো দেইখা ঢুকতে দিলো না পার্টিতে। দুঃখে ঢুকলাম হেমাটোলোজিতে, আজকা সব রক্ত দিয়া যামু সবাইরে। সমবণ্টন করুম আমার সবকিছুর, ডাক্তার নিলো না। আমার রক্তে সভ্যতার জীবাণু আছিলো …

তার আগে একটা প্রেমিকাও আছিলো যার গল্প কেউ শুনে নাই। বেশরম প্রেমিকা জড়ায়া ধরছিলো রাস্তার মাঝখানে ঝড়ের বাতাসে যখন ছাতা উইড়া গেছিলো, কইছিলো প্লিজ ছাইড়ো না। আমি ছাড়ি নাই, গন্ধ নিছিলাম নাক ডুবায়া । আমারে অসভ্য কইছিলো, আমি কইছিলাম এই গন্ধের মাদকতায়ই তো তুই আছস। আমি গন্ধটা নিতে চাইছিলাম পারফিউম সিনেমার মতন … নিবার পারি নাই, নিবার পারলে বানাইতাম ওই গন্ধভরা বোতল।
গন্ধটা এহন আর পাই না, ভাইগা গেছে আমারে রাইখা। ওই গন্ধটা দরকার … খুব বেশি নেশায়

ফটোগ্রাফি-৫ঃ ইমরান ফিরদাউস

...

ফটোগ্রাফিঃ ইমরান ফিরদাউস

...

মাহবুব শাহরিয়ারমাহবুব শাহরিয়ার

কবি

Leave a comment

Filed under সারথি

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s