আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া / মজনু শাহ (১ম কিস্তি)

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া : মজনু শাহ

I’m a dropout horse : Maznu Shah

১ম প্রকাশঃ ২০১৫

প্রকাশকঃ চৈতন্য

আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া 

কবির ভূমিকা 

মজনু শাহ 

...

প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলে নি উত্তর।

বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিমসাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
মেলে না উত্তর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষলেখা-য়, ‘কে তুমি’, এই প্রশ্নটির একটা চিরন্তন আবেদন আছে। যেন বিপুল আলো-অন্ধকার থেকে উৎসারিত আমূল সত্তা-কাঁপানো এই প্রশ্ন। আদৌ কি এর কোনো উত্তর হয়? এটি ভাবতে গিয়ে দেখলাম, প্রশ্নটির মর্মমূলে যে অন্তর্ঘাতশক্তি, তা সম্মোহিত, বিপন্ন, বিব্রত যেমন করে, বিবমিষাও জাগায়। তবু, সত্যকথনের নিকটবর্তী যদি হতে না পারি, তবে একটি ইঙ্গিত, রূপকের বাস্তবতা, বা অন্তত একটি হেঁয়ালি, একে হয়ত মর্যাদা দিতে পারে। যে কোনো কারুকর্মীকে একদিন প্রশ্নরূপী এই চাবুকের মুখোমুখি হতে হয়, কেননা ‘কে আমি’র পিছে খণ্ড খণ্ড আমি’র ছায়া সতত শিকারির মতো ঘুরছে।

*
এই গ্রন্থের লেখাগুলো, তাৎক্ষণিক! বা সামান্যকে খুঁজে ফেরা। অবশ্য আমার সব লেখাই কমবেশি এমন। জগতে তুচ্ছ, অতি-তুচ্ছ, স্খলিত যা কিছু, সেসবের দিকে benevolent curiosity নিয়ে যদি তাকাই, একেকটি মুহূর্ত সেখানে ভাবনাবীজ যেন, প্যারাডক্স হয়ে উঠতে সক্ষম, কখনো যেন তারা মাধবী! বাকফসলের রাজ্যে, কী-বা নাম হতে পারে এদের, ব্ল্যাকহিউমর? হেত্বাভাস? ন্যানো? চিত্রোক্তি, না, অন্যকিছু? যা-ই হোক, তেমন দাবি না রেখে, একজন হরবোলার মতো শুধু দেখে যাওয়া, আর সংক্ষিপ্ততম করে টুকে রাখা। ইমেজারি সন্ধান! কবিতার সেট-থিওরি, করণকৌশল, আর সমস্ত আখ্যানবর্ণনার বাইরে এসে, সন্ধ্যার আকাশে ভেসে বেড়ানো একখানি ছোট সিন্ধুমেঘ  যতটুকু বলে, তারই আয়োজন।
 

 অনুবাদকের ভনিতা 

আন্দালীব
 

আন্দালীব“আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া” পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, এই বইয়ের কবিতাগুলো আমার নিজেরই। এই অনুভূতি খুব নতুন কিছু নয়, নানান ‘উৎকৃষ্ট কবিতা’ পড়তে গিয়ে প্রায়ই আমার এমনটা মনে হয়। ব্যপারটা মনে হওয়া অব্দি থেমে থাকলেই ল্যাঠা চুকে যেত, সেটি হল না আরকি। নানা দিক থেকে পংক্তিগুলো চিন্তায়-ভাবনায় এসে ঠোকর মেরে যাচ্ছিল, সাগরতলের মাছের মত; নম্র আর পৌনপুনিক। মনে হল পংক্তিগুলো মাথা থেকে না সরিয়ে, বরং এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়াই শ্রেয়। ‘…ড্রপআউট ঘোড়া’র কবিতাগুলো নিজে না লিখেও এই যে ‘নিজের’ বলে মনে হওয়া, এই ছদ্ম-ঔনারশিপের জায়গা থেকে ভাবছিলাম, মজনু শাহর কবিতাগুলো এবার বরং ‘নিজে’ই লেখা যাক। বাংলা ভাষা ব্যবহার করে সেটি যেহেতু আর করা যাচ্ছে না, তাই গ্রন্থটি ইংরিজি ভাষান্তরের এই উদ্যোগ। তা থেকে প্রথম ১০০টি কবিতার অনুবাদ ‘লাল জীপের ডায়েরী’তে প্রকাশ করা হল।

কবিতার অনুবাদ বিষয়ে যেই প্রশ্নটি চিরকাল থাকে, যে কবিতার আদৌ কোন অনুবাদ হয় কী না। সেই দ্বিধা জাগ্রত এখানেও। ইংরিজি টেক্সটে মজনু শাহ এর লেখার মূল ভাবটুকু ধরে রেখে নিজের মত করে কবিতাগুলো ভাষান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে, কোথাওবা আনা হয়েছে সামান্য রদবদল। ফলে অনুবাদের সুরটি কারো কাছে মূলানুগ নাও মনে হতে পারে। ভাবানুবাদ, ছায়ানুবাদ- এইসব টার্ম দিয়েই বরং একে স্পর্শ করা যাবে অধিক। ধন্যবাদ।

...

কে তুমি?
…আমাকে বলছ? আমি? ওহ্‌, তবে শোনো, আমি এক
ড্রপআউট ঘোড়া।

Who are you?
…talking to me? I am? Listen up; I’m a dropout horse all the way.

 

তোমার সূক্ষ্ম-সত্তা গিলে খায় আমার সমস্ত সৃষ্টিকে।

Your integrity evaporates all my devises.

 

আরো এক অন্তর্মুখী বাগানের দেখা পাই।  স্বপ্নেরা ঘুরছে।
থম মেরে আছে পাখিদের রঙ শুষে নেয়া গাছ।  কেউ একজন
উন্মাদকণ্ঠে ডেকে চলেছে, ধ্রুবতারা, ধ্রুবতারা…

Yet another spiritual garden appears. Dreams are rambling.
The woods that obscured colors from the birds are silent now.
I hear, someone is yelling madly – Dhrubotara, Dhrubotara…

 

হয়রান হলে তুমি অস্পষ্ট সাপের তাৎপর্য ভেবে।

You’ve gone sick and tired of the serpent of your mind.

 

এক মহাকাশ ঘুম জমে উঠছে কোথাও, আর একটা ঝুঁটিবাঁধা
কবুতর ছটফট করছে আমার ডার্ক চেম্বারে।

My fatigue is mounting somewhere in the outer space, And
a crown-headed pigeon is fidgeting in my dark chamber.

 

আমি আজও ধীরে ধীরে সারিয়ে তুলি স্বপনপারের পাতাহারা মেহেদীগাছ।

In trance, slowly I heal the wounds of a sacred Henna tree.

 

অপ্রকাশিত পাখিটির কথা ভাবি, সে কখন ফুটে উঠবে
কস্‌মিক আলোয়, তার জন্যে আমার সমস্ত অপেক্ষা।

I think about the secret bird to come out in the cosmic light,
I’m really longing for the day.

 

সেই অমিয়ধারা থেকে উঠে আসি।  দেখি বাক্যের পরিবর্তে
বিছানায় শুয়ে আছে বন্দুক। আর অন্তরীক্ষে এক উপমা উড়ছে।

I ascend from the Ambrosia. Here I see no wording but a smoking gun
in my bed. And a metaphor is flying high, sky high.

 

দরবেশ আর নীহারিকা, কে কাকে একটুখানি করে তোলে জাগতিক?

The Sage and the Nebula, who is driving the other one little crazy?

 

১০

আবহমান গাধার পিঠ থেকে পড়ে যাই আমি আর বন্ধুর বৌ।

Here I dethrone from the sacrament along with my paramour.

 

১১

অনেক হয়েছে, এবার বাগ্মিতা পরিহার করো চাঁদ,
ভেসে যাচ্ছে একটি ছোট মেঘ, একখানি ছোট সিন্ধুমেঘ।

Oh Luna, it’s high time, let’s give up your rhetoric.
A sweet cloud, a piece of Indus-cloud is ambling nearby.

 

১২

কোনো কোনো বিকেলে দুই দিক থেকে ভাষাশত্রু  আর
ভাষানর্তকী এসে ধুতুরা ফল আঁতিপাঁতি খুঁজতে থাকে।

Sometimes in the evening, a lingo-renegade fumbles for the belladonna,
a wacky ballerina howls for the same from the other side.

 

১৩

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আমার কাছে শব্দই একটা কেবল। এক কণা
স্বর্ণধূলি নিয়ে বসে আছি।

The World is nothing but an utterance. It’s a gold dust lays in my fingertip, twinkles.

 

১৪

হিতোপদেশের অন্ধকারে কিছু বটফল মৃদু আলো ছড়াচ্ছে ঘাসের ভিতর।

In the vague gospels, some banyan-fruits are glowing into the grass.

 

১৫

পাঠোদ্ধারে আমি তার সমকক্ষ নই। তার অভিপ্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে,
কেন সে তবু আমাকেই উপহার দিতে চায় প্রভাতকুন্দ?

In terms of decoding, I must not be compared with her. But why she
wants me to have morning-garlands every time, when her job is done?

 

১৬

শরের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে বৃদ্ধ পাখিটি কয়, ফর্ম বলে কিছু নাই,
কন্টেন্ট বলেও কিছু নাই, বায়োস্কোপ শুরু হল তবু।

Coming out of the shrub the old bird tweets – there is no form; no content at all, hitherto the bio-scope started to roll.

 

১৭

কেন লিখি?… সমাধিপাথর খুঁজে বেড়ানোর অবসরে মূলত এও এক যৌনভাবুকতা।

Why do I write actually? … Guess it’s some kind of lust that I have
developed whilst searching obelisks.

 

১৮

নির্বাণের সুরা ও গোলাপ যদি-বা অন্তর্হিত হয় দৃশ্যজগৎ থেকে,
কী আমার করণীয়, আমি কতটুকু তোমার কাছে ট্র্যাজিক মাপে ঋণী!

What can I do, if the roses and the wines of nirvana get dimmed off;
now tell me, how much I owe you tragically!

 

১৯

কারুরাত্রির খসে যাওয়া পালকের ভার সয় আমার এই বালিঘর।

My sand castle stands still even after the load of feathers of the
crafted night.

 

২০

কাকাতুয়া-সম্রাট, কোথায় তোমার লণ্ঠন ও বন্দুক?

Heil Cockatoo-king, where is your musket, your lantern?

 

২১

শাম্‌স, এই খ্যাতি-লিপ্সা, এই মেরুপথের অন্ত না পাই।
এ কি নয় গাধার সঙ্গে সঙ্গম!

Shams, I don’t know where these endless roads are headed to;
and the lust of fame. Isn’t it bestiality?

 

২২

ছিপ ফেলে বসে আছ তুমি। কিছুক্ষণ পর পর পদ্মকে মৃদু ধাক্কা দিচ্ছে একটি বৌমাছ।
সবই কত পরিমাপহীন, চূড়ান্ত পার্থিব!

You are loitering with your fishing hook. After a certain while, a bride-fish
is seducing a Lotus. How inestimable everything here, awfully materialistic!

 

২৩

যেই তুমি এক রাজহংসীর মতো এলে, রক্তমাখা পাতা কুড়ানো শুরু করলাম ফের।

As you came to me like a swan, I started to collect the leaves messed-up
with blood.

 

২৪

তোমার মশলাবাক্সের গায়ে ফুঁ দেই, ফুটে ওঠে রাতের নির্মম গদ্য।

I puff at your spice box; the cruel content of the night emerges.

 

২৫

জনশূন্য আয়নাস্টেশন। অদ্ভুত যাত্রীর মতো দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি দেবদারু।

A hollow station. Some deodar trees are pretending to be passengers.

 

২৬

সেদিন সাপলুডু খেলা সমাপ্তির কিছু পরে তোমার অর্গাজম হল।

Soon after the final episode of the Saapludo, you experienced orgasm.

 

২৭

পাঠকের মনোবিকলন, পাঠকের পাখিআত্মা আমি স্বীকার যাই।

The dilemma of the reader, and on their ado – I yield.

 

২৮

রামপ্রসাদ গাইছে কেউ। তোমাদের দুই বোনের কণ্ঠস্বর প্রায় একইরকম।
এখন গান ও গরম ছাই উড়ে আসছে তোমাদের বাড়ি থেকে।

Someone is singing Ramaprasada. Both of your sisters have similar voices.
Melodies and blistering ashes are coming out from your home now.

 

২৯

আমগাছের গায়ে উইপোকাদের এমব্রয়ডারি দেখে বহু তত্ত্ব ভুলে যেতে হল।
অনন্তর, মৃগচর্ম পরিত্যাগ করে, এখন পরিধান করি বল্কল।

Many theories have to be forgotten after watching the embroidery mark
of worms in our old mango-tree. Now leaving the eternal deer-fur behind,
I wear tree-crusts.

 

৩০

অপরিজ্ঞাত ভাষা আমার পাশ দিয়ে ছুটছে।

Mysterious languages are running in my parallel.

 

৩১

হে নক্ষত্র, আর কতকাল আমার জুতোহীন পায়চারি?

Hey guiding star, how long I must be without any moccasin?

 

৩২

স্বপ্নের দায়িত্ব মাঝে মাঝে দুএকটা যৌন-খরগোশ সহজে ধরে আনা।

Couple of libido-rabbits should be hunted in dreams.

 

৩৩

একেকদিন ও-বাড়ির ছোট বৌদির হাত ফসকে সিঁদুরকৌটো পড়ে গিয়ে
তার সারা পৃথিবী মেখে যায়।

Sometimes the World goes wrong when their tender bride slumps
down her vermilion pot.

 

৩৪

কিছু কিছু খিস্তিখেউড় আমি গোলাপকুঁড়ির কানে ঢালি।

Slowly I pour some bizarre slang straight into the heart of a rose bud.

 

৩৫

ভ্রমর এসে দেখে যায় তোমার আজানুলম্বিত চুল ঠিকভাবে আঁচড়ানো কিনা।

The bumble-bee verifies whether you have properly combed your hair.

 

৩৬

আমি কি দেখি নি তোমার ডুবন্ত আলো?

Haven’t I seen your dwindling light?

 

৩৭

আমার ব্যথা ও রাত্রি একে অন্যকে সারারাত সেলাই করে চলেছে।

The darkness and the pain stitch-up each other all night long.

 

৩৮

এবং তোমার মেকআপ রুমেও বিড়াল উপস্থিত আছে।

And even here is a cat in your Makeup room.

 

৩৯

পিঁপড়ের গর্তের সামনে বসে আছি। একটু দূরে, এক অচেনা বনমানুষ
বেতো ঘোড়ার পায়ের ছাপ লক্ষ করে হাসছে।  তার হাতে চক-পেন্সিল।
এখানে আজকাল প্রত্যেকের হাতে কেন এত চক-পেন্সিল?

I am seating down next to the Ant-colony. Nearby an anonymous
Ape is cheering to observe the footsteps of a pathetic horse. It holds
a white-charcoal. These days why everybody is carrying so many?

 

৪০

সব নাচ, মুদ্রা, তোমার জন্যে। তুমি অবশ্য এতদিনেও তবু নাচিয়ে ভল্লুক নও।
নও জগতের পুষ্পবাহক।

Dances and steps, it’s all for you. Though you are neither
a dancing-bear nor a flower peddler.

 

৪১

মর্মার্থ অনায়ত্ত রয়ে যাবে, হে শব্দচোর, তুমি তবু এই হু হু হাওয়া, হু হু সংকেত,
হু হু ছন্দজ্যোৎস্নার তীব্রতা মাখো কিছুক্ষণ।

The meaning would still remain virgin, my copycat. You’d better be
perished with your silky breeze, gesture and moon-dance for some time.

 

৪২

রক্তরঞ্জিত মাঠে এখন বৌ চলে যাওয়া অঙ্ক-মাস্টার আর খেঁকশিয়ালেরা
বসে আছে চুপচাপ।

In the gruesome ground, a forsaken math-tutor and jackals are
sitting silent.

 

৪৩

এক-আকাশ-বিজ্ঞাপন দিয়ে ঢাকি দেবদারুটির যৌনতা।

I cover up the civility of the Deodar tree with a massive hoarding.

 

৪৪

মৃত্যু আসবে এপিফ্যানি লেখার রাতে।

Death to come on the eve of Epiphany.

 

৪৫

খরগোশদের ঘুমন্ত কাশবন একটি বাক্য হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু কোথায় আমার
জ্যোতি-শব্দেরা?

The sleepy-field full of rabbits wants to be the diction.
But where are my glowing texts?

 

৪৬

পরিত্যক্ত কামান ঘিরে খৈ-বৃষ্টি শুরু হল।

The popcorn-rain has started all around the holy Cannon.

 

৪৭

কোনো কিছুর মধ্যে যখন তুমি দেখতে পেলে বসানো আছে ক্ষুদ্রাকৃতি আয়না, তখন দৈব
নিজেকে দেখছে, ধীর এক রাত্রিপতন শুরু হয়ে গেছে হয়ত ততক্ষণে কোথাও।

When you find a tiny mirror placed in a cradle, surely it’s celestial.
A slow death reveals somewhere nearby.

 

৪৮

কোনো কোনো ফুলের মধ্যে মহীয়সী ডাকঘর আছে।

Some flowers aroma is the best communique.

 

৪৯

তোমার গমনপথ জুড়ে আমি আজ আজীবন সঞ্চিত পদ্মবীজ ছড়াতে এসেছি।

I came here to sow the wisdom-seed where your trail blaze.

 

৫০

আমার দানাপানি ফুরিয়ে আসছে, ঝুমকোজবা।

I am running out of bucks, sweetheart.

 

...Maznu shahমজনু শাহ
কবি

আন্দালীবআন্দালীব
কবি ও অনুবাদক

Leave a comment

Filed under সারথি

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s