প্রিয় ভিনসেন্ট / নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

ধারাবাহিক গদ্য

আমার সুন্দর

পর্বঃ ১

...

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, আর্টিস্ট ও কবি। এই ধারাবাহিক গদ্যে, গদ্যকার তার প্রিয় আর্টিস্টদের রঙ, রেখা, জীবন ও যাপনকে, তার নিজের উপলব্ধির সাথে মেলাচ্ছেন। নিজের সাথে নিজের প্রগাঢ় আলাপের মত। প্রেমে ও মমতায়। লাল জীপ আনন্দিত, এই ধারাবাহিকটি ধারণ করতে পেরে। আসুন আজ ১ম পর্বের গদ্যটি পড়ে ফেলি।

ভূমিকাঃ লাল জীপ

v 6Self-Portrait with Bandaged Ear and Pipe
January 1889. Oil on canvas, 51 x 45 cm

...

‘‘Now I think I know what you tried to say to me,
How you suffered for your sanity,
How you tried to set them free.
They would not listen, they’re not listening still.
Perhaps they never will… ’’

একদিন তুমি দুটি ডানা পেলে এবং মহান এক শূন্যতার কাছে উড়ে চলে গেলে। তুমি সূর্যের দিকেই গেলে, কিন্তু তুমি  তো ইকারুস নও। তোমার মোমের ডানাও নয়, তোমার তো আলোর ডানা। তোমার ডানার আলো জানো, সূর্যকেই করে দিতে পারে চির ম্লান। তারপর তুমি চলে যাওয়ার অনেক অনেক দিন পর ডন ম্যাকলিন তোমাকে নিয়ে গাইলো এই গান, সেই তারার রাতের গান। তুমি যে তারার রাতগুলির ছবি আঁকতে সেইসব কথা। তোমার কি মনে আছে তোমার ‘স্টারি নাইট’ ছবিটা তুমি কবে এঁকেছিলে? সেই যে তোমার যন্ত্রণার রাতগুলিতে তুমি অ্যাজাইলামের জানলার ওপারে দেখতে রাতের আকাশ, ঘূর্ণায়মান নক্ষত্রদল, চঙ্ক্রমণে মাতাল আকাশ। সেই ছবিতে যেন-বা যন্ত্রণাদগ্ধ তোমার অন্তরাত্মা চক্রাকার নৃত্যে ভেঙে দিতে চায় মহাকর্ষ, মাধ্যাকর্ষকে, ঘুরছে নীল, হলুদ, শাদা, কমলার ক্ষ্যাপা উৎসার। মনে আছে, কেন তোমাকে পাঠানো হয়েছিল অ্যাজাইলামে? পেছনে পড়ে রইল আর্লের হলুদ বাড়ি, পরিপাটি-করে-সাজানো একলার বিছানা, সূর্যমুখীর হাসি ও কান্না। সেই-যে দক্ষিণ ফ্রান্সের আর্ল নামের ছোট্ট শহরের হলুদ বাড়িটি, পরিপাটি করে গুছিয়ে তুমি প্রতীক্ষা করছিলে সেই-এক তাহিতির রাজার জন্য, সেই শেয়ারবাজারের দালালটির জন্য, সেই গৃহত্যাগী জোছনা, পেটমোটা লোকটার জন্য, যে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল স্ত্রী আর সন্তানদের, সেই গঁগ্যার জন্য। সে তোমার বন্ধু ছিল, কিন্তু জানতে না সে তোমাকে ঈর্ষা করত। না, ঠিক তোমাকে না, ঈর্ষা সে করত তোমার রঙকে। সে তাহিতি থেকে যে ম্রিয়মাণ রং নিয়ে এল তা তোমার সূর্যকরোজ্জ্বল রঙের সামনে বরাবরই ম্লান হয়ে গেল, কিন্তু সে বার্নসিনা, ইয়েলো অকার থেকে যেন বের হতেই পারল না। তাই একদিন আর তোমাদের মধ্যে বন্ধুতা থাকল না। তোমরা হয়ে উঠলে পরস্পরের শত্রু। একদিন কী-এক কারণে তুমি একটা কাচের গ্লাস ছুঁড়ে মারলে তার মাথায়। একদিন সে পথ দিয়ে হাঁটার সময় সে শুনতে পেলো কে যেন তার পিছনে ছুটে আসছে। পিছনে ফিরে দেখল একটা ধারালো ক্ষুর হাতে তুমি ছুটে আসছো তার দিকে। প্রতিরোধের জন্য বিশালবপু গঁগ্যা ঘুরে দাঁড়াতেই আবার ছুটে পালিয়ে গেলে তুমি। এর কারণ আর কেউ না জানুক, আমি তো জানি। বলা হয়, তুমি নিজের কান কেটে সেই মেয়েটির কাছে পাঠিয়েছিলে — যে বলেছিল তোমার কান সুন্দর। কথা তো সত্য নয়। সত্য হচ্ছে গঁগ্যাই তোমার কান কেটে দিয়েছিল। কান কেটে দিয়ে পালানোর সময় তুমি তাকে উদ্যত ক্ষুর হাতে তাড়া করেছিলে। এই সত্য তো আমি জানি, প্রিয়। লোকে বুঝলো, তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছো। তাই তোমাকে রেখে আসা হলো সেন্ট রেমির অ্যাজাইলামে। সেইখানেই তুমি আঁকলে সেইসব তারার রাত।

v 4Flower Beds in Holland, April 1883. Oil on canvas, 48.9 x 66 cm

অশোক পুড়ে যায়, পুড়ে যায় আরো আরো ক্ষেত্রজ কুসুম, পুড়ে যায় বাসনা ও পৃথিবীর যত আছে লাল। তোমার পেইন্টিঙে প্রোথিত নীরবতা আমাকে শেখালো নৈঃশব্দ্যই সবচে’ ললিত শব্দময়। নৈঃশব্দ্যেও ভাষায় কথা বলতে পারে যে-জন সে-ই বিজয়ী। তুমি তো বিজয়ীই ছিলে। তোমার ভিতরে যে ছিল জীবনতৃষ্ণা তাই-ই তোমাকে মহান করেছে। জীবদ্দশায় তোমার একটা মাত্র ছবি বিক্রি হয়েছিল তাও খুবই কমদামে। আর তোমার চিরপ্রস্থানের পর তোমার আঁকা ছবির চেয়ে দামি কোনো ছবিই বলা যায় ছিল না। আমি আমার প্রিসলিনকে বলেছিলাম, ভিনসেন্ট ভ্যানগগ আমার মতে পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। একজন শিল্পীর মধ্যে যতগুলি গুণ থাকা দরকার সবই তার মধ্যে ছিল। যা আর কারো মধ্যে ছিল না। হ্যাঁ, চিত্রকলার ছাত্র হিশেবে এইটুকুই বলতে পারি, গুহাচিত্রের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত তোমার মতো শিল্পীর জন্ম হয়নি পৃথবীর কোথাও। হবে না কোনোদিন।

তোমার তো হওয়ার কথা ছিল প্রিস্ট। তুমি মিশনারি হয়ে চলেও গিয়েছিলে বেলজিয়ামে খনিমজুরদের কাছে। সেখানে মজুরদের অবস্থা দেখে তোমার এত কষ্ট হলো যে, যা সামান্য টাকাপয়সা ছিল সব বিলিয়ে দিয়ে নিজে উপোস করতে লাগলে। আর সেই-সময় থেকে তুমি ছবি আঁকা শুরু করলে চারকোলে। মনে আছে, হল্যান্ডে থাকতেই ফ্রাঁসোয়া মিলের আঁকা গরিব চাষীর ছবি দেখে তুমি মুগ্ধ হয়েছিলে! মিলের সেই ছবি — চাষী মাঠে বীজ বুনছে বা গির্জার ঘণ্টাধ্বনি শুনে মাঠে কর্মরত কৃষকদম্পতি প্রার্থনা করছে — তুমি তো প্রথম দিকে ওইসব ছবি দেখে দেখেই ড্রয়িং করতে। পরে তুমি ড্রয়িঙে আশ্চর্য ক্ষমতা অর্জন করেছিলে। এঁকেছিলে দরিদ্র কৃষক, পুরুষ-নারী মাঠে কাজ করছে, নিরন্ন শ্রমিক, দিনমজুর, কয়লার-বস্তা-পিঠে নুয়ে-পড়া নারী শ্রমিক, গির্জায় প্রার্থনারত নারী, ভিখারি মা সন্তান কোলে লঙ্গরখানার সামনে খাবারের আশায় দাঁড়িয়ে আছে এমন-সব ছবি। তোমার আঁকা এসব ছবি দেখে তোমার স্নেহের থিও খুব উৎসাহিত হলো। তুমি তার কথাতেই চলে গেলে প্যারিসে ছবি আঁকা শিখতে।

v 5The Siesta (after Millet), January 1890. Oil on canvas, 73 x 91 cm

একদিন থিও তোমাকে নিয়মিত চিঠি লিখত। আর এখন আমি লিখছি। এই চিঠি তুমি পড়তে পারবে না জানি। কিন্তু আমার এ-চিঠির অক্ষরেরা ইথারে ঘুরে ঘুরে খুঁজে নেবে তোমার নক্ষত্রের রাত, তোমার ঘূর্ণিময় আকাশ, তোমার সূর্যমুখী, তোমার নৈরব্য, তোমার মমতার প্রান্ত, তোমার রঙের দুঃখ … আরো যা আছে তোমার রক্তক্ষরণ। তুমি চিরদিন একটা পরিবার, আর সন্তানের স্বপ্ন দেখতে। কিন্তু কেউ তোমাকে বাঁধলো না। তাতে কী!

আর্ভিং স্টোন তোমাকে আমার কাছে নিয়ে এল প্রথম। আর্ভিং আমার কাছে ঝাপসা লাগে উল্টেপাল্টে প্রতিদিন রেখে দিই বুকশেল্ফে। এক চ্যাপ্টার দুই চ্যাপ্টার পড়ে খেই হারিয়ে ফেলি। কারণ ইংরিজি অত ভালো আমি জানি না। তারপর একদিন তিতাস পাড়ের সেই ধীবর কথক অদ্বৈতমল্ল আর্ভিং এর ‘লাস্ট ফর লাইফ’-কে বানালো যে ‘জীবনতৃষ্ণা’ — তার সন্ধান পেলাম। আর আমার তৃষ্ণাও উত্তরোত্তর বেড়ে গেল। আমাকে যেন-বা কেউ ছুঁড়ে দিলো ঘূর্ণীর ভিতর।

v 7 Valley with Ploughman Seen from Above, December 1889.
Oil on canvas, 33 x 41 cm

ভিনসেন্ট, সেই কবে তুমি এঁকেছিলে ‘ফ্লাওয়ার্স ইন আ ব্লু ভাস’ ছবিটা। তোমার এই ছবিটির ফুলগুলিকে তাজা রাখার জন্য নেয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু বেশি যত্নের কারণেই কি শুকিয়ে যাচ্ছে ফুলগুলি? একটি নীল রঙের ফুলদানিতে একগোছা ফুল, যেখানে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুলের সংখ্যাই বেশি। অনেকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল ফুলগুলির উজ্জ্বল হলুদরঙে কেমন একটা কালশিটে পড়ছে। শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মতো ধূসর-কমলা রং ধরছে তাতে। কারণ ছবিটি সংরক্ষণের জন্য তার ওপর যে ক্লিয়ার বার্নিশের আস্তরণ লাগানো হয়েছিলো, সেটাই প্রকৃত-অর্থে ক্ষয়ের কারণ। বার্নিশের কিছু উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই এই বিপত্তি। তুমি তো নিজের আঁকা ছবিতে কখনো ক্লিয়ার বার্নিশ লাগানো পছন্দ করতে না জানি। গত শতকের শেষের দিকে তোমার ছবিটির দায়িত্ব নিয়েছিল শুনেছি হল্যান্ডের ক্রোলার মুলার জাদুঘর। খুব সম্ভবত তখনই তাতে ক্লিয়ার বার্নিশ লাগানো হয়। হলুদফুলে কালশিটে পড়ার বিষয়টা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে আরো পরে। দেখা যায় একটা ধূসর আস্তরণের মতো তৈরি হয়েছে ওই অংশে। এই ছবিতে তুমি যে হলুদরং ব্যবহার করেছিলে সেটা তো ক্যাডমিয়াম ইয়োলো ছিল, তাই না? যার রাসায়নিক উপাদান ক্যাডমিয়াম সালফাইড। ইহা বাতাসের অম্লজানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শাদা রঙের ক্যাডমিয়াম সালফেট তৈরি করে। ফলত উজ্জ্বলতা হারায় ছবির রং। বার্নিশের উপাদানগুলির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্যাডমিয়াম সালফেট। ফলত তৈরি হয় অ্যাংলেসাইট এবং ক্যাডমিয়াম অক্সালেট। এরা একজোট হয়ে একটা কমলা-ধূসর আস্তরণ ফেলে দেয় হলুদের ওপর। এইভাবে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে তোমার ছবিটা। এই ছবি তুমি কার জন্য এঁকেছিলে, ভিনসেন্ট? সবকিছু বিবর্ণ হয়, সব ফুরিয়ে যায়, ফুরিয়ে যায় আকাশ। তোমার বর্ণিল আকাশও একদিন ফুরিয়ে যাবে।

প্রিয় ভিনসেন্ট, তুমি আমাকে শিখিয়েছিলে রঙের তৃষ্ণা। তুমি আকাশ থেকে নীল নিয়ে ছবি আঁকতে। আর সূর্য থেকে নিতে হলুদ, নিতে লালের অনেক গ্রেড। কখনো তুমি গমক্ষেত থেকে সোনালি এবং রাই-সর্ষেক্ষেত কিংবা সূর্যমুখীর বন থেকে হলুদ নিয়েও আঁকতে। আমি স্বপ্ন দেখতাম, একদিন আমি অনেক বড় হলে, একগাড়ি রং কিনব, ঘরভর্তি শাদা ক্যানভাসে এঁকে দেবো প্রগাঢ় রক্তজবার বনাঞ্চল, প্রাচ্যের সকল ধনেশ সচঞ্চু শৃঙ্গারে একাকার। আরো এঁকে দেবো নীলকণ্ঠের যত আছে খণ্ডিত অভিমান। ইচ্ছে ছিল কবেকার সকল মানুষের প্রার্থনার রূপ এঁকে হয়ে যাব আমিও হিরণ্ময়। হলো না।

v 8Wheatfield with Crows, July 1890. Oil on canvas, 50.5 x 103 cm

তোমার কালারপ্যালেট থেকেই যেন উদ্গত হলো ডেথ সিম্ফনি। আমার অ্যামাদিউস-এর কথা মনে হয়। তুমি যখন দিগন্তাবধি সোনালি গমের মাঠ আঁকলে তখন তা বিষয়ের আধিক্যে ভারাক্রান্ত হয়ে গেল না, তাতে যে ব্যাপ্ত আবেগ এল তা চিত্রনন্দনগত। তুমি আঁকলে কম্প্লিমেন্টারি রং দিয়ে। জানি, কম্প্লিমেন্টারি রং হলো সেই রংগুলি যা পরস্পর সংঘর্ষ তৈরি করে, অভিঘাত ও বৈপরীত্য তৈরি করে; একটার সঙ্গে অন্যটা মিলে যায় না। নীল, বেগুনি, হলুদ, কমলা ইত্যাদি রং নিউটনের রামধনুর ক্রমবিরোধী। নিউটনের রামধনুতে কোনটার পর কোন রং আসবে তা বলে দেয়া যায়। কিন্তু কম্প্লিমেন্টারি রঙে তা বলা যায় না। তুমি তাই নিজস্ব এক টেক্নিক দাঁড় করালে। ক্যানভাসে প্রতিটি স্ট্রোকে যে রং চাও তা প্রথমে প্যালেটে মিশিয়ে তৈরি করলে, তারপর তা ক্যানভাসে পাশাপাশি মোটা স্ট্রোক দিয়ে লাগালে। প্রতিটি ব্রাশস্ট্রোক পাশের স্ট্রোক থেকে স্বতন্ত্র। এইভাবে ছোট ছোট স্ট্রোক মিলে ছোট ছোট ফর্মের সৃষ্টি হলো। এইভাবে বহু স্ট্রোককৃত ফর্ম মিলে বহির্মুখি হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল নদীর মতো, ভেঙে পড়ল তরঙ্গের মতো। এইভাবে তৈরি হলো এই ছবি। শুধু কি এই ছবি! — তোমার পোস্ট-ইম্প্রেশনিজম পর্বের প্রতিটি ছবিই এইভাবে তৈরি। তোমার এই ছবিটা যখন আমি প্রথম দেখি তখনই ছবির ভিতরে ঢুকে গেলাম। তারপর আরো অনেকবার তোমার আঁকা ছবির ভিতর ঢুকে গেলাম। আকিরা কুরোসোয়া যে বানালো তোমার আঁকা ছবি নিয়ে তার সেই স্বল্পদীর্ঘ সিনেমা ‘কাক’, সেই সিনেমা দেখতে দেখতে যে আমি ঢুকে গেলাম তোমার ছবির ভিতর — আর বের হতে পারলাম কই, প্রিয়! ছবির ভিতর মাঠ, মাঠে আদিগন্ত সোনালি গমক্ষেত। গমক্ষেতের উপর সোনালি দুপুর। দুপুরের উপর নীল আকাশ, আকাশের দুইপাড়ে দুইটা সূর্য। আকাশের নিচে, গমক্ষেতের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে যেন-বা সূর্যের দিকে একঝাঁক কাক। এইখানে কাক যেন-বা ধাবমান মৃত্যু। আমি যেন ক্ষেতের অদূরে তোমাকে দেখলাম। তুমি আমাকে দেখলে না। ব্রাশ চলছিল তোমার মাঝারি সাইজের একটা ক্যানভাসে। তার চোখে রোদের ধাঁধা। হঠাৎ থির। বিকেল পড়ে এল। প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমে ওভেয়ার সুরওয়াস গ্রামের এই গমক্ষেতের অদূরে দাঁড়িয়ে আমিও থির।  আমি ভাবলাম, এই পেইন্টিং তবে কি অসমাপ্ত থেকে গেল?

v 9

একদিন স্বপ্নে দেখলাম, বাবা আমার ঘরের মেঝেতে একটা ছবি এঁকে রেখে হারিয়ে গেছেন। দেখলেই বোঝা যায় আনমনে এঁকেছেন, অসম্পূর্ণ ছবি। চারকোল ঘষে আঁকা। ধানক্ষেতের উপর দিয়ে কাক উড়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে দিগন্তে। আমার সমস্ত শূন্য মনে হলো। স্বপ্নের ভিতরই আমার মনে হলো এই-রকম তোমার একটা পেইন্টিং আছে। গমক্ষেতের উপর দিয়ে কাক উড়ে যাচ্ছে। তোমার ছবিতে সূর্য দুইটা, আর বাবার ছবিতে তিনটা।

ভাবলাম, তুমিও কি অসমাপ্ত থেকে গেলে না, আমার বাবার মতো কিংবা বাবাও তোমারই মতো?

...নির্ঝর নৈঃশব্দ্য নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
আর্টিস্ট ও কবি । 

3 Comments

Filed under সারথি

3 responses to “প্রিয় ভিনসেন্ট / নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

  1. MD. Faizur Rafman

    Vincent van Gogh, another favorite chapter …!

    Like

  2. নাসিরুদ্দিন শাহ শামীম

    খুব ভাল লেগেছে , আরও আরও পড়তে চাই। কবিকে ধন্যবাদ।

    Like

  3. Ajoy Sannyal

    Marvellous writing…… I want to read soon your next writing.
    Thank you.

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s