ফারহান নূর শারিকের গুচ্ছ কবিতা

drupadi-dn-suami

অন্যতম

হায়! কেবল প্রগাঢ় উন্মত্ততার জন্য
উন্মাদ হয়েছিলো নিষিদ্ধ
হায়! কেবল অমিশ্র নির্দেশ অমান্য করায়
আদম হয়েছিলো নিক্ষিপ্ত
নিকৃষ্টে কীটের সাথে হতে হয়েছিলো সামাজিক

হায় কাঞ্চনগর!
তোমার প্রতিটি রাত পাপিষ্ঠ এবং বৃহৎ
তবু আদম কখনো ইভকে গড়ে সমাজ গড়েনি
হয়ে উঠতে পারেনি সামাজিকও
মহাজাগতিক ঈশ্বরস্বত্ত্বা ধারণ করেছিলো
নরকতুল্য বিশ্রী এই পৃথিবীতে
নিজেই বলেছিল সে অধিশ্বর
কিন্তু তারপরও ধরণী তাকে ভালবাসত

কিন্তু হায়! পরিত্যাক্ত অন্ধকারতলে
যে অনন্ত নক্ষত্রবিথীর বসবাস
যা জেগে উঠে প্রতিটি রাত্রিতে ট্রয়ের আকাশে
তা হেলেনের দ্যুতিময় চোখের অশ্রু পাণ করতে
আজো উন্মুখ

হায় সীতা!
কেবল তোমাকে ভালবেসেছিলো বলেই
প্রেমিক হারিয়েছিল তার রাজত্ব
আগুনে পুড়েছিলো বিস্তীর্ণ নগর
আর খুনি রাম হয়েছিলো শ্রেষ্ঠ
হায়! তারপরও সীতা তুমি সতী রয়ে গেলে

হায়! সুপ্রাচীন সব মৃত্যুহীন পাখি
মধ্যরাতে আফিমের নেশায় যাদের চোখ হয়ে উঠে রক্তবর্ণ
যারা নিজ চেতনাকে পাণ করে অনবরত
হেমলকের মতৰ
নৈশব্দের অন্তহীন চিন্তা
যেখানে সৃষ্টি করছে অর্থহীন চক্র
তার পাশ কাটিয়ে নিকটবর্তী শহরতলীর নির্ধারিত পথে
যারা ফেরারি যাযাবর পথিক
হায় ভুল আবারো!
আমি যে তার অন্যতম

 

এপার-ওপার

দেখো, দেখো অতন্দ্রী
আমি চূর্ণ চূর্ণ ভেঙেপড়া বৃষ্টির মতো
পুঞ্জ পুঞ্জ কামাবেগে শুষে নিচ্ছি তোমার ত্বক
তুমি ভাঙছো প্রতিনিয়ত, হচ্ছ বাঁধভাঙা জল
প্রতিটি চুম্বনে শত শত স্বেতবাসনা
ঝরোঝরো জলপ্রপাতের মতো রক্ত রাঙানো
তোমার নৈশ কন্ঠস্বরে কামার্ত চিৎকার
ডাকছে, ডাকছে বিদ্যুৎচমকের মতো
রাখছে শাসিত আবদার।

শুনছো
শবযাত্রার শোকাবহ শুনশান মিছিল
একাকিত্বের নিদারুণ যন্ত্রণা যে বইছে এতদিন
সকল নক্ষত্রের পুনর্জন্ম ঘটিয়েছিলো তোমায়
যার বিনষ্ট বিশ্বাস তীর ভাঙা এক নদী
ভাঙছিলো উপকূল রাত্রি দিন
পেয়েছো, খুঁজে পেয়েছো স্পর্ষ
সে দেবতার।

ছুঁড়ে ফেলো সব শোকবস্ত্র
পাথুরে খনির শূণ্যগর্ভ থেকে বের হচ্ছে চাঁদের মোলায়েম জ্যোৎস্না
স্নানপর্ব সময়ের বুকে সেখানে বিস্তারিত
কামনাশ্রেণী তৃষ্ণার্ত পিপাসায় পান করছে অবিরত
ওষ্ঠের মতো সুমিষ্ট আঙুর ফল
এ রক্ত-মাংসের নেশার কাছে মদ দুর্বল
ক্ষয়ে ক্ষয়ে শিখে নিচ্ছে আবাদি দেহ
সমস্ত ঐশ্বর্যের স্বাদ মধু-লবনাক্ত।
দেখো,দেখো শ্বাশত দৃষ্টি
আঁধারের উন্মত্ত জানোয়ারের মতো
আমিও ভালবাসতে পারি।

 

অনিদ্রা

সারাটা রাত জেগে আছি
কোন শব্দ নাই
পাখিদেরও সাড়া নাই প্রথম প্রহরে
বিচ্ছিন্ন ডেকে যাচ্ছে কাক
অনিদ্রায় জ্বলছে দু’চোখ
ধূসর চারপাশ

তারপরও মন চাচ্ছে
কেউ একজন পাশে বসুক
হাতটা ধরে জিজ্ঞেস করুক
কি হইসে

 

প্রেমস্বত্ত্ব

আমি যখন আমার নই কে হবে আমার?
আমি যখন তোমারও নই তবে তুমি কার?
কথাগুলো যদি আমার না হয় – কথাগুলো কার?
কার জন্য কৃষ্ণচূড়া ছুঁয়ে কুয়াশা নামে পথে?
পথের ল্যাম্পোস্ট তাহলে কাকে চাঁদ ভেবে জাগে?
নেশার রাজত্ব যদি বাধার হয় তবে বাধা কিসের?
বোতলে বোতল ঢোক গিলে কি গেলাসের পরিমানে বাঁধে!

অদ্ভুত প্রেম খোলা চুলে, বিকালের স্নানের পরে।
অশ্লিল প্রেম শীতল ঠোঁটের, রক্তের স্বাদে ভেজে।
অনন্য প্রেম খোপার ভাঁজে, লাল পাতা ঝরে।
অদৃশ্য প্রেম শাড়ির আঁচলে, হাওয়ায় কালো কেতন উড়ে।

 

নিষেধাজ্ঞা

এপিটাফের অজস্র শব্দ স্বপ্ন আর স্মৃতির কাতরতায় জড়িয়ে
এক শূন্যতার কথা বলে
নিরবতায় সরব অন্ধকারে বন্ধ মনে দেখে
এক ছায়া মানুষের মুখ

নিষেধ
চেতনা কাতর রাতকে জাগাবার
নিষেধ
পুন:পুন: অস্তিত্ব হারাবার
নিষেধ
তারা ছুঁয়ে দেখার ব্যর্থ হাহাকার

অথচ
রদ্দুরে এক পাহাড় সূর্যের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে
অলক্ষ্যেই খুলে দিচ্ছে রাতের বন্ধ দ্বার

অথচ
প্রকাশ্যে ভয়ের কুহেলিকা হয়ে ঘুম মানুষটা
বিরহী সংবেদ তুলে ফাঁস নিচ্ছে বারবার

অথচ
গহীন অরন্য ছুঁয়ে ফেলা নিষাদ মেঘের বারিধারা
আকষ্মিক দ্রোহের আগুন ছুড়ে অবতলে
বুনছে সবুজ আবার

নক্ষত্রে মিথ্যে নেই
নক্ষত্রে সত্য নেই
নক্ষত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা

 

শাব্দিক শ্বাপদ

শত শত সম্ভাবনা প্রিয়তমার চোখে
চতুর্দিকে ঘুরে ঘুরে ছুটছে নিশিদিন
কিন্তু কোথায় নিশি
নাইট্যাঙ্গেলের রাত কাকে অভিবাদন জানায়
কার চোখে দেখে নিঃশ্বাসের স্পন্দন
কংক্রিটে নিভে যাওয়া সিগেরেট জ্বলে যখন পুনরায়

স্পর্ষের অনুভবে দুরুদুরু কাঁপে বুক
ফাটা ঠোঁটজোড়ায় ভিজে রক্তের স্বাদ
নেই মানুষের চুমু বিভৎস
তলানিতে জমা পুরোনো নিকটিনের মত
অনিচ্ছার অনুরাগে রাখে ভাল থাকার প্রচেষ্টা

কিন্তু মধ্যযুগের দিনের ঘুমের কারণ!
সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা এক বিন্দু রৌদ্রের জন্য?
কাঁচের দেয়ালের পাশে দাড়িয়ে বৃষ্টির প্রলোভন
কিংবা আঙুল ছোঁয়া শীতের শিহরণে
বিবস্ত্র মিলনে পোড়া মাংসের ঘ্রাণে বন্যের মতন
তথাপি ক্লান্তি!

নারীর বা রমনীর রূপান্তরিত দুঃস্বপ্নে কাটে
অনাকাঙ্খিত পুরুষের কাতরতায়?

শূন্যতার মোকাবেলা রাতের শব্দহীন বিদ্রোহে
বুকভরা সিগেরেটের ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ
কথা না বলার হরতালে শাব্দিক শ্বাপদ
ঘুরে ফিরে-ফিরে এলেও পাপের উন্মেষে অগন্য
তবে ঝুলে পড়ার জন্য আরো কিছু সময় দরকার।

...

Farhan-Noor-Sharikফারহান নূর শারিক

কবি

Leave a comment

Filed under সারথি

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s